ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার সময় নারী পোশাক শ্রমিককে হত্যা করে রিক্সা চালক

প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ৪:১২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

হিলি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা: হিলিতে কিস্তির টাকা জোগাড় করতে,ঈদ শেষে গ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে শারমীন আক্তার (২২) নামের এক গার্মেন্টস কর্মীকে হত্যা করেছে রাজু উড়াও নামের এক রিক্সা চালক।

আজ সোমবার ভোর রাতে উপজেলার চন্ডিপুর এলাকায় রাজু উড়াও এর নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত সহ তাকে আটক করা হয়।

হাকিমপুর থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, পোশাক শ্রমিক শারমিন আক্তার ঢাকার গাবতলীতে বসবাস করতো। গত জুলাই মাস থেকে শারমিন অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসক শারমিনকে এক মাস বিশ্রামের পরামর্শ দেয়।

পরে বাবার অনুরোধে শারমিন গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে এসআই পরিবহনে গ্রামের বাড়ী দিনাজপুরের হাকিমপুরের (হিলি স্থলবন্দর) উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

শুক্রবার ভোর রাত ৩টা ৪৪ মিনিটে হিলিতে পৌছে। রিক্সাচালক রাজুর গাড়ীতে করে বাড়ী ফেরার পথে তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয় এবং ওই দিন শুক্রবার উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার বৈগ্রাম সড়কের ব্রিজের নিচে কাঁদার মধ্যে অজ্ঞাত পরিচয়ধারী হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে মেয়েটি পরিচয় পাওয়ার পর গত শনিবার মেয়েটির বাবা শাফি আকন্দ বাদী হয়ে হাকিমপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

পরে পুলিশ সিসি টিভির ফুটেজের ক্লু ধরে রাজুকে সনাক্ত করে এবং তার বাড়ির শয়ন ঘরের খাটের নিচ থেকে নিহত শারমিনের কাপড়ের ব্যাগ উদ্ধার করে।
নিহত শারমীন (২২) উপজেলা গড়িয়াল গ্রামের সাফি আকন্দের মেয়ে।

আটক রাজু উড়াও জানায়, গ্রামীন ব্যাংক থেকে সে ৩০ হাজার টাকা কিস্তি লোন নিয়েছে। সেই লোনের কিস্তির ৮৫০ টাকা পরিশোধ করার জন্য সে শারমীনকে হত্যা করে। শারমিন একা থাকায় এবং তার ব্যাগে টাকা আছে ভেবে সে এই হত্যা করে।

তিনি আরও জানায় প্রথমে শারমিনকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে হাসপাতাল রোড দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় যাতে সিসি ক্যামেরায় সে ধরা না পরে। নির্জন মাঠে নিয়ে গিয়ে শারমিনের গলায় ফাঁস দেওয়া হয় এবং জমির কাদায় ঠেসে ধরে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর বিজ্রের নিচে ফেলে রাখেন।

আটক রাজু উড়াও (৩০) হাকিমপুর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের বাবু উড়াও এর ছেলে।