উচ্চ শিক্ষাস্তরে ছাত্রী বাড়লেও শিক্ষিকা বাড়ছে না : ব্যানবেইস

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৩৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮

মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষায় ছাত্রী ভর্তির হার বাড়লেও সে অনুপাতে শিক্ষিকা বাড়ছে না। এ তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)।

সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মাধ্যমিক থেকে উচ্চ শিক্ষাস্তর পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থীর ৪৫ শতাংশই ছাত্রী। তবে শিক্ষকতায় ছাত্রীদের অংশগ্রহণের হার ২৫ ভাগ।

মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ব্যানবেইস কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য প্রকাশ করে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘শিক্ষায় বাংলাদেশে নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষায় বাংলাদেশের অর্জন ঈর্ষণীয়। এরইমধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রী ভর্তির হারে শুধু সমতা অর্জনই নয়, ছাত্রের তুলনায় বেশি লেখাপড়া করছে। শিগগিরই উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেও নারী শিক্ষায় সমতা অর্জন করবে।’

ব্যানবেইসের তথ্য বলছে, ষষ্ঠ থেকে মাস্টার্স শ্রেণী পর্যন্ত মোট ৮টি ধারায় শির্ক্ষার্থীরা লেখাপড়া করে। এরমধ্যে ইংরেজি মাধ্যমে ছাত্রীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় স্থানে আছে মাদ্রাসা। তবে ছাত্রী ভর্তি ঊর্ধ্বমুখি হলেও বাড়ছে না শিক্ষিকার হার। প্রাথমিক পরবর্তী শিক্ষার স্তরে নারী শিক্ষকের হার খুবই কম। মাত্র ২৫ শতাংশ নারী শিক্ষক এই স্তরের ৪১ হাজার ৩১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাকরি করছেন।

ব্যানবেইস মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ড. অরুণা বিশ্বাস, অতিরিক্ত সচিব জাকির হোসেন ভূঞা, রওনক মাহমুদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্যানবেইস এবারও শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবে সারাদেশের মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলোর। তবে প্রতিবেদনে প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকেই তথ্য স্থান পাবে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে প্রাথমিক স্তরের তথ্য নিয়ে থাকে ব্যানবেইস।

মাধ্যমিক পরবর্তী শিক্ষায় দেশে বর্তমানে ৮টি ধারা আছে। এগুলো হচ্ছে, স্কুল ও কলেজ বা সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা, পেশাগত শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংরেজিমাধ্যম। ব্যানবেইসের তথ্যমতে, সর্বশেষ হিসাবে এই ৮ ধারায় প্রায় ২৫ শতাংশ মহিলা শিক্ষক আছে। ছাত্রী আছে ৪৫ শতাংশ।

মাউশি মহাপরিচালক বলেন, প্রাথমিক পরবর্তী স্তরে ছাত্রীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় শিক্ষিকার হার বাড়ছে না। অবশ্য সরকার নারী অগ্রগতির জন্য যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে অচিরেই শিক্ষকতা পেশায় নারীর সংখ্যা বাড়বে।

ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, স্কুল পর্যায়ে শিক্ষিকার হার ২৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এছাড়া কলেজে ২৩ দশমিক ৫৬, মাদ্রাসায় ১৩ দশমিক ১১, কারিগরি ও ভোকেশনালে ২০ দশমিক ৪৩, পেশাগত শিক্ষায় ২৪ দশমিক ২৬, শিক্ষক প্রশিক্ষণে ২৪.৮১, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬.০২ এবং ইংলিশ মিডিয়ামের প্রায় ৪২ শতাংশ শিক্ষক নারী।

ব্যানবেইস মহাপরিচালক জানান, আগামী মাসে সারাদেশে শিক্ষাসমীক্ষা শুরু করে। তাতে যেসব প্রশ্ন রাখা হবে, সেগুলো অংশীজনকে অবহিত করার লক্ষ্যে ওই কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নেওয়া হয়েছে।

সমীক্ষায় দশটি বিষয়ে তিন শতাধিক প্রশ্নের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বিষয়গুলো হচ্ছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ তথ্য, শিক্ষক ও কর্মচারী, ভৌত সুযোগ সুবিধা, শিক্ষার্থী, আইসিটি শিক্ষা ও লাইব্রেরি, যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা।

ব্যানবেইস মহাপরিচালক জানান, এবারের সমীক্ষার মূল বৈশিষ্ট্য ও লক্ষ্য হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন।