ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ, নিলামে জাজের সম্পত্তি!

টিবিটি টিবিটি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৩২:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০১৮

টিবিটি বিনোদনঃকর্জ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার মালিক আব্দুল আজিজের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক লিমিটেড।

রোববার ঋণের অর্থ আদায়ে রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের সম্পত্তি নিলামে তোলার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ব্যাংকটি। প্রতিষ্ঠানটির কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনার পরিমাণ ১ হাজার ৯৩ কোটি ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯৯ টাকা।

রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড কেউ কিনতে চাইলে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অথবা দিলকুশা লোকাল অফিসে দরপত্র জমা দিতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, কোম্পানি ক্রিসেন্ট লেদারের চামড়া খাতের রফতানির টাকা দেশে আসেনি। অথচ নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে একের পর এক বিল কিনেছে জনতা ব্যাংক। এই কায়দায় জনতা ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা তুলেছে ক্রিসেন্ট গ্রুপ।

এ ঘটনায় জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখার ৮ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও শাখার বৈদেশিক ব্যবসার লাইসেন্স (এডি লাইসেন্স) স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অধিকতর তদন্তও হয়েছে। তবে এতদিন পর্দার আড়ালে ছিল জাজ মাল্টিমিডিয়া।

জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্রিসেন্ট গ্রুপের এ ঋণ কেলেঙ্কারির বড় অংশই হয়েছে রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের মাধ্যমে। জাজ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান আবদুল আজিজের বড় ভাই এমএ কাদের ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্টস, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ, ক্রিসেন্ট ফুটওয়্যার, রূপালী কম্পোজিট লেদার, লেক্সকো লিমিটেড ও গ্লোরি এগ্রোর কর্ণধার।

সব প্রতিষ্ঠানই গড়ে তোলা হয়েছে ক্রিসেন্ট গ্রুপের নামে। চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসায় এই দুই ভাই এমএ কাদের ও এমএ আজিজ ২০১৩ সাল-পরবর্তী পাঁচ বছরে জনতা ব্যাংক থেকে ৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন।

এর মধ্যে পণ্য রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তা তহবিল থেকে তুলে নেয়া হয়েছে ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। দুই ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বর্তমানে ২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে জনতা ব্যাংকের। এর বাইরে পণ্য রফতানির ১ হাজার ২৯৫ কোটি টাকাও আটকে গেছে।

ঋণ কেলেঙ্কারির বিষয়ে জানতে জাজ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান আবদুল আজিজকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে বেশকিছু গণমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান এমএ আজিজ, যে কিনা তিনি নন। ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদেরকেও তিনি চেনেন না।

কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান এমএ আজিজই জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) সূত্রেও এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আব্দুল আজিজ ও তার বড় ভাই এম এ কাদের চামড়াজাত পণ্যের এই ব্যবসা পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন।

দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে জাজ মাল্টিমিডিয়ার আবির্ভাব ২০১১ সালে। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে থাকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি। ‘নবাব’, ‘শিকারি’ ও ‘অগ্নি’, এর মধ্যে অন্যতম। এর বাইরে ‘বস-২’, ‘পোড়ামন- ২’, ‘বাদশা-দ্য ডন’ দেদারসে ব্যবসা করেছে এতে, যা নির্মাণ করেছেন জাজ মাল্টিমিডিয়া। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও বিনিয়োগ করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে রিমেক্স ফুটওয়্যারের দায়-দেনার একটি হিসেব উল্লেখ করে তা পরিশোধের জন্য জাজ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজকে চিঠি দিয়েছিল জনতা ব্যাংক। সেখানে দেখা যায়, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিমেক্স ফুটওয়্যারের কাছে রফতানি বিল ক্রয়বাবদ (এফডিবিপি) জনতা ব্যাংকের পাওনা রয়েছে ৫৩৫ কোটি ৮৫ লাখ ৭৪ হাজার ২৯০ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটি প্যাকিং ক্রেডিটবাবদ (পিসি) ১৬৬ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার ৪৫৭ টাকা ঋণ নিয়েছে। সাধারণত রফতানি পণ্য শিপমেন্টের জন্য এ ধরনের ঋণ দেয়া হয়। রিমেক্স ফুটওয়্যার রফতানির জন্য অগ্রিম ক্যাশ সাবসিডি হিসাবে নিয়েছে ১৪ কোটি ৮৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪২ টাকা।

এছাড়া রফতানি বিল প্রত্যাবাসন না হওয়ায় প্রায় ১০৪ কোটি টাকা ফোর্সড লোন সৃষ্টি হয়েছে। রিমেক্স ফুটওয়্যারের অন্য দায়গুলো হলো, সিসি হাইপো ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭০ টাকা, সিসি প্লেজ ১০৮ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকা, আইএফডিবিসি ৭১ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং এলসিবাবদ ১ কোটি ৩২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিমেক্স ফুটওয়্যারের কাছে জনতা ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৪০ হাজার ৬২৩ টাকা।

এমএ আজিজকে দেয়া চিঠিতে ব্যাংকের সব দায় পরিশোধের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছিল। রিমেক্স ফুটওয়্যার নির্ধারিত সময়ে জনতা ব্যাংকের পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় অর্থ ঋণ আদালত আইন ২০০৩ এর ১২ ধারার বিধান মোতাবেক ঋণের বিপরীতে বন্ধকি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।