একটু অসাবধান হলেই মহামারি ধারণ করতে পারে নিপা ভাইরাস

প্রকাশিত: 9:06 PM, December 9, 2019 | আপডেট: 9:06:PM, December 9, 2019

নতুন একটি ভাইরাস ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। এই ভাইরাসের বাহন নিশাচর বাদুড়। বাদুড়ের বহন করা ভাইরাসটির নামকরণ করা হয়েছে নিপা ভাইরাস।

নিপা আক্রান্তদের চিকিৎসায় এখনো কোনো ওষুধ কিংবা টিকা উদ্ভাবন না হওয়ায় এতে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ। বাংলাদেশে নিপা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত করা হয় ২০০১ সালে। এরপর ২০১১ সাল থেকে দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে নিপা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১৪ জন।

সোমবার সিঙ্গাপুরে শুরু হওয়া নিপা ভাইরাস বিষয়ক এক সম্মেলনে সহ-আয়োজক কোয়ালিয়শন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস- সিইপিআই’র প্রধান নির্বাহী রিচার্ড হ্যাচেট জানান নিপা ভাইরাসের হুমকি সম্পর্কে।

“এটি (নিপা ভাইরাস) শনাক্তের পর ২০ বছর কেটে গেছে, কিন্তু নিপা ভাইরাসের কারণে তৈরি হওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি সমালানোর মতো পর্যাপ্ত উপকরণ এখনও বিশ্বে নেই।”

রোগতত্ত্ববিদ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী ও নাগরিক সংগঠন নিয়ে ২০১৭ সালে গড়ে ওঠা সিইপিআই মূলত নতুন, অজ্ঞাত রোগের প্রতিষেধক তৈরি ও উন্নয়নে কাজ করে থাকে।

সংগঠনটি যেসব রোগ নিয়ে কাজ করছে, তার মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে নিপা, যে ভাইরাসটি মূলত বাদুড় এবং শূকরের মাধ্যমে ছড়ায়। তাছাড়া এই ভাইরাস সরাসরি মানুষের মাধ্যমে এবং দূষিত খাবার থেকেও ছড়াতে পারে।

শনাক্তের দুই বছরের মধ্যেই ২০০১ সালে বাংলাদেশে নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে মেহেরপুর, নওগাঁ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ ও রংপুরে মানব দেহে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়।

২০১১ সালে বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

আর গত বছর ভারতের কেরালায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়।

রিচার্ড হ্যাচেট বলেন, “নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সীমাবদ্ধ, তবে এটি মারাত্মক মহামারীর রূপ নিতে পারে। কারণ এই ভাইরাসের বাহক টেরোপাস (ফ্লাইং ফক্স নামেও পরিচিত) বাদুড় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়, যেখানে প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস।”

তাছাড়া যেহেতু মানুষের মাধ্যমেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে, সেক্ষেত্রে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটির ছড়িয়ে পড়াটাও খুব স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিঙ্গাপুরে দুইদিন ব্যাপী নিপা সম্মেলনের আরেক আয়োজক হচ্ছে ডিউক-এনইউএস মেডিকেল স্কুল।

সম্মেলনের কো-চেয়ার ডিউক-এনইউএস মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক ওয়াং লিনফা প্রথমদিনের অধিবেশনে বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগটিকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখলেও নিপা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ কিংবা প্রতিষেধক টিকা এখনও নেই।”

তবে এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে বিশেষজ্ঞরা নিপা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ খুঁজে পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।