একা মেয়ে মানেই যৌনকর্মী!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:১১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৪:১১:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

নাইজেরিয়ার অনেক বাড়ির মালিকই সন্দেহ করেন যে, একা মেয়ে মানেই যৌনকর্মী। যার ফলে একা মেয়েদের পক্ষে বাসা ভাড়া পাওয়া সেখানে খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

পেশাজীবনে ইতোমধ্যেই সফলতা পেয়েছেন ৩০ বছর বয়সী অনুফানমিলোলা। খুব সহজেই তিনি একটা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে পারতেন। কিন্তু পাঁচ মাস ধরে বাসা খুঁজে না পেয়ে অবশেষে তার ঠাঁই হয়েছে এক বান্ধবীর বাসায়। সেখানেও বিপত্তি। তাকে ঘুমাতে হয় সোফায়।

ভালো একটা চাকরি পেয়ে সে লেগোস থেকে আবেওকুটা তে চলে আসে। আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার পরেও মধ্যবিত্ত বা একটু বিত্তবানদের এলাকাতে একটা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে পারেননি। কারণ একটাই তিনি একা থাকবেন। শুধুমাত্র এ কারণেই তিনি বাসা ভাড়া পাননি।

অনুফানমিলোলা বলেন, প্রথমেই আমাকে যে প্রশ্নটা শুনতে হয়েছে সেটা হল আমি কি বিবাহিত? আমি জানালাম যে আমি অবিবাহিত। তারপর প্রশ্ন করা হলো কেন আমি বিয়ে করিনি। আমি বিভ্রান্ত হই। একটা বাসা ভাড়া নেয়ার সাথে বিয়ের কী সম্পর্ক?

অনুফানমিলোলা বলেন, এই বৈষম্য ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। তারা বলে যে, ভদ্রলোককে বাসা ভাড়া দেবে। তার মানে কি নারীরা ভদ্র না? ৯৯ শতাংশ বাড়ীর মালিক যাদের সাথে আমি সাক্ষাত করেছি, তারা কেউ আমাকে বাসা ভাড়া দেয়নি, কারণ আমি একা নারী। অনেক মালিক এবং এজেন্ট আমাকে বলেছে তুমি কি তোমার পুরুষ-সঙ্গী বা স্বামীকে আনতে পারবে? এই ধরণের অ্যাপার্টমেন্টে আমরাই বলছি কোন পুরুষকেই ভাড়া দেব আসলে আমরা চাই একজন ভদ্র মানুষকে ভাড়া দিতে।

রিটেইল সেক্টরের একজন প্রোডাক্ট ম্যানেজার সিলভিয়া অয়িনডা। ৩১ বছরে তার বাগদান হয়। কিন্তু প্রতিটি বাড়িওয়ালাই তাকে বলেছেন যে, আগে তার হবু স্বামীকে আনতে হবে তারপর তারা অ্যপার্টমেন্ট দেখাবেন। নাইজেরিয়াতে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, ‘স্মল গার্ল, বিগ গড।’ এই কথার অর্থ অনেকটা এমন, যারা সিঙ্গেল মেয়ে তাদের অর্থের যোগানদাতা থাকে। তারা বেশির ভাগই হয় বৃদ্ধলোক।

অয়িনডা বলেন, বাড়ির মালিকরা মনে করেন বেশির ভাগ তরুণী যারা একা থাকেন তারা অন্যরকম। কোলম্যান ওয়াফো একটি বাড়ি এবং বেশ কিছু সম্পত্তির মালিক। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বৈষম্য করেন না। কিন্তু তার বেশির ভাগ ভাড়াটিয়া এবং ক্রেতাই পুরুষ। কারণ তাদের তুলনামূলক বেশি অর্থ আছে।

তিনি বলেন, বেশির ভাগ একা মেয়েরা হয় তাদের বাবা-মা অথবা পুরুষসঙ্গীর ওপর নির্ভরশীল। আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না যে, এক বছর পর কী হবে। তাই প্রতিটি বাড়িওয়ালাই চায় কোন ঝামেলা ছাড়া মাসের ভাড়া পাবে আর সময়মত কন্ট্রাক্ট নবায়ন করবে।

তিনি বলেন, বেশির ভাগ একা মেয়েরা কোন কাজ করে না। এখানে মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের জন্য কাজের সুযোগ বেশি। এটাই এখানকার পরিস্থিতি।