এক বছরে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম, গর্ভবতী আরও ২০ হাজার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:১২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ৮:১২:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮

সরকারি হিসাবমতে, গত এক বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নিয়েছে ৬০ হাজার শিশু। আর বর্তমানে গর্ভবতী আছেন আরও ২০ হাজার নারী। তবে বেসরকারি হিসাবমতে, এ সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

জন্মের হার যেভাবে বাড়ছে তা যদি অব্যাহত থাকে তা হলে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সে চিন্তাই অস্থির হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা না গেলে সামনে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

কক্সবাজারে কর্মরত ইউনিসেফের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক আমাদের ঢাকা অফিসের জরিপ অনুযায়ী, গত এক বছরে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার নবজাতক জন্মগ্রহণ করেছে।

অন্যদিকে কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গর্ভবতীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৩৩২ জন। সে হিসাবে চলতি বছর শেষ হতেই ১১ লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে যোগ হবে আরও প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা।

কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, অনেক ভয়ের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছি। রাতে ঘুম হয় না। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে কান্না আসে।

এই রোহিঙ্গা থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে আমার প্রাণ প্রিয় অঞ্চল। পাহাড়-পর্বত জমি সব রোহিঙ্গার দখলে চলে গেছে। আর দিনের পর৬ দিন তাদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নানা প্রকার অপরাধও বাড়ছে।

উখিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মদ বলেন, আমরা এখন নিজ শহরে বন্দি হয়ে বসবাস করছি। কারণ ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের কারণে আমাদের বনভূমি, পাহাড়, জলাধার, রাস্তাঘাট, প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্যের দামসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

টেকনাফ ২১ নাম্বার ক্যাম্পের চাকমারকুল মেডিকেল ক্যাম্পে কর্মরত ডা. আয়েশা কবির বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা অনেক বেশি। আমার দেখা মতে, ২০ বছরের একজন রোহিঙ্গা মেয়ের তিনটি করে সন্তান আছে।

মূলত তারা মিয়ানমারে কোনো ধরনের সচেতনতা বা পরিবার-পরিকল্পনা বিষয়ে ধারণা পায়নি। বরং কিছু ধর্মীয় কথাবার্তাকে পুঁজি করে তারা আরও বেশি সন্তান নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাদের পরিবার-পরিকল্পনার কথা বললেও তারা সহজে রাজি হয় না। বরং ডাক্তার-নার্সদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।

এদিকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজী ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গারা যখন বানের পানির মতো বাংলাদেশে ঢুকছিল, আমি তখনও বলেছিলাম- এরা সহজে যাবে না।

কারণ আমার অনেক দিনের অভিজ্ঞতা। আমি জানি রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসে আর যায় না। এখন তারা যে হারে সন্তান জন্ম দিচ্ছে, কয়েক বছর পর কি হবে সেটি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। তবে এ সমস্যা সমাধান খুবই জরুরি।