এক মাসে দেশের অনেক কিছুর পরিবর্তন হবে : মওদুদ

প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৫৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আর মাত্র এক মাস সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের অনেক কিছুর পরিবর্তন হবে। আমাদের এমন প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে এই সরকারকে বাধ্য করা যায় নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে।

তিনি বলেন, সময় ফুরিয়ে আসছে। আমাদের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ। সামনে আমরা কীভাবে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনব সেটির চ্যালেঞ্জ।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার: বর্তমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ।

সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব আসম মোস্তফা কামালের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমীন, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ।

মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা নির্বাচনকালীন সরকারের জন্য রূপরেখা দেব। তার ওপরে ভিত্তি করে আজকে সমস্ত জাতির ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ছাড়া বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছেছে যে, আগামী নির্বাচন হবে একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এটা যদি সংবিধান থেকে বেরিয়ে এসে করা হয় তাতে কোনো অসুবিধা নেই। সংবিধান কোনো বাধা নয়। সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। আমরা এই ব্যবস্থাকে আবার বৈধ্যতা দিতে পারব আগামী সংসদে নির্বাচনের পর পরবর্তী সংশোধনী এনে।

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার ছলচাতুরি করছে বলে অভিযোগ করেন মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। যারা তাকে দেখে এসেছেন তাদের বর্ণনা শুনলে চোখে পানি এসে যায়। সরকার একটি মেডিকেল বোর্ডে করেছে। এই বোর্ড গঠনটা প্রতারণা ছাড়া আর কিছু না। ৫ জন সদস্যের মধ্যে একজন আছেন বিশেষজ্ঞ বলা যেতে পারে। বাকি ৪ জনের মধ্যে তিনজন একেবারে তরুণ। তারা শুধু পদ-পদবিতেই নয় তারা আওয়ামী লীগের এক্টিভিস্ট।

মওদুদ আহমদ আরও বলেন, মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন বলছে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তাকে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করার যেতে পারে। যদি ঝুঁকিপূর্ণ না হয় উনি হাসপাতালে যাবেন কেন? সরকার তার স্বাস্থ্য নিয়ে যে ছলচাতুরি করছে, যে ষড়যন্ত্র করছেন এর জবাব একদিন সরকারকে দিতে হবে, দায়দায়িত্ব নিতে হবে। এ বোর্ড স্ববিরোধী প্রতিবেদন দিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা তার (খালেদা জিয়ার) চিকিৎসার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করলেও কথা অনুযায়ী কাজ করেননি। যাদেরকে নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে তারা সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগার। অবিলম্বে নতুন মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হোক। তা না হলে আমরা মনে করব, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে খালেদা জিয়াকে আরও দুর্বল করার জন্য, তাকে জেলখানায় রেখে নির্বাচন করার জন্য যে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন তারই অংশ হিসেবে এই ধরনের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

সরকারি চাকরির কোটা প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য কোটা থাকবে না রিপোর্ট বেরিয়েছে। এই ধরনের সংস্কার তারা চায়নি। কোটা আন্দোলনকারীরা সরকারি সব চাকরির কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়েছিল। এটা একটা প্রতারণা। কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটা বিশ্বাসঘাকতার পরিচয় দিয়েছে। এটা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। কোটা আন্দোলনকারীদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি আছে। তাদের আন্দোলন বৃথা যাবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।