এখানে ডাক্তার থাকেন না!

শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০১৯ | আপডেট: ৭:২৯:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০১৯
ছবি: সংগৃহীত

নামমাত্র চলছে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম। সংকটের মধ্যেও ডাক্তার থাকেন অন্যত্র। জনবল সংকটও চরমে। রয়েছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অভাব। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ৩১ শয্যার কার্যক্রমেও নানা সমস্যা জর্জরিত।

ফলে প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা শতশত মানুষ প্রয়োজনীয স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, সেবার মান বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ।

আজ বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা লোকজনের সাথে কথা বলে উঠে আসে এমন চিত্র।

গত বুধবার দুপুর থেকে হাসপাতালে ভর্তি রোগী আছিয়া বেগম। বাড়ি উপজেলার পোড়াগড় গ্রামে। তিনি জানান, তার প্রেসার ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দুইদিন আগে ভর্তি হয়েছেন। তাকে প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন। ওষুধ কিনতে হবে বাইরে থেকে।

অপর রোগী মমেলা বেগম। বাড়ি উত্তর ষাইটকাকড়া। তিনি বলেন, পেটের ব্যাথার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। অহনও ব্যাথা কমে নাই। ওষুধ কিনে খাইতাছি। আপারা (নার্স) কইলো ডাক্তার আইবো।

এ সময় চিকিৎসা নিতে আসা টিকেট কাউন্টারে কথা হয় মরিচাপাড়া থেকে আসা আয়শা খাতুনের সাথে। তিনি বলেন, আড়াই মাসের শিশু সন্তান নিয়ে আইছি। বাচ্চার জন্য আলাদা কোনো ডাক্তার নাই। এর পরেও লাইনে দাঁড়াইয়া আছি। এভাবে প্রতিদিন শতশত মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন। তবে ডাক্তার সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেকে।

জানা যায়, পাকিস্তান আমলে নির্মিত হয় ৩১ শয্যার শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাসপাতালটি ৫০ শয্যার উদ্বোধন হয়। দীর্ঘদিন পরেও ৫০ শয্যার হাসপাতাল চলছে ৩১ শয্যার। এখানে জুনিয়র কনসালটেন্ট মিডিসিন, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারিসহ সিংগাবরনা, কাকিলাকুড়া, গোসাইপুর, শ্রীবরদী সদর, কুড়িকাহনীয়া ও গড়জরিপা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী সার্জন পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে রানীশিমুল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত সহকারী সার্জন ডা. মমিনুল ইসলাম ও তাতিহাটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. তাজকিয়া তাসনিম আহমদ প্রেষণে রয়েছেন জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. জিয়াউল হক প্রেষণে রয়েছেন ঢাকা সিইউএসডি হাসপাতালে। গাইনি বিভাগের ডা. জোৎস্না খাতুন আসেন মাসে দুই একদিন। হোমিও ডা. ওয়াদুদ হক দীর্ঘদিন যাবত প্রেষণে হোসেনপুর ইউএইচসিতে কর্মরত।

সূত্র মতে, ওইসব ডাক্তাররা যোগদানের পর অন্তত ২ বছর থাকার কথা থাকলেও তিন চার মাসও হাসপাতালে আসেননি। এ ছাড়া নেই প্যাথলজিস্ট ও কার্ডিওগ্রাফার। দুটি অ্যাম্বুলেন্স এর মধ্যে একটি একেবারে বিকল। অন্যটি চলে লক্করঝক্কর। এক্সরে মেশিনটিও ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ইসিজি মেশিন নষ্ট।

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ডাক্তার সংকটের কারণে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে ডাক্তার সংকটের কারণে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরপরও আমরা চেষ্টা করছি আরো বেশি সেবা দেওয়ার। তবে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সংকটের কারণে কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায় বলেন, প্রতিদিন গড়ে অর্ধশত রোগী আসেন ইনডোরে। আউটডোরে আসেন আড়াইশ থেকে ৩শ’ রোগী। আউটডোর এবং ইনডোরে প্রয়োজনীয় ওষুধ রয়েছে। তবে যা আছে তা দিয়ে রোগীদের মান সম্মত সেবা দিতে আমরা চেষ্টা করছি।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা হবে উন্নত। স্বাস্থ্যসেবা পাবে উপজেলাবাসী। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সচেতন মানুষরা।

সুত্র: কালের কণ্ঠ।