এগিয়ে চলেছে মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৫:১৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮

টিবিটি মেট্রোঃএগিয়ে চলেছে মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ। সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক এই প্রকল্পের কাজে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মেট্রোরেলের লাইনের (এমআরটি-৬) কাজ এখন দৃশ্যমান।

২০১৯ সালে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সচল হবে এই রেল। আর ২০২০ সালের মধ্যে চলবে মতিঝিল পর্যন্ত। এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্প এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। অনেক স্থানেই এই রেললাইন স্থাপনের জন্য পিলার বসে গেছে। কোথাও কোথাও কাজ আরও বেশি এগিয়েছে। শিগগিরই নগরবাসী এর আরও বাস্তব রূপ দেখতে পাবে।

জানা যায়, রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে ২০১২ সালে মেট্রোরেল প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশনের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নানা সমস্যায় তা না হওয়ায় ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অন্তত ৯টি স্টেশনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

আর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত বাকি সাতটি স্টেশনের কাজ শেষ হবে ২০২০ সালের মধ্যে। এই প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) বৃহত্তর ঢাকার জন্য পাঁচটি ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (এমআরটি) বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল চালু হবে। এই প্রকল্পের নাম এমআরটি লাইন-৬। এই অংশের কাজ চলছে পুরোদমে।

এমআরটি লাইন-৬ রুটে মোট ১৬টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এর প্রথম স্টেশন হবে উত্তরা নর্থ, এরপর যথাক্রমে উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয় হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমআরটি লাইন-৬ কে মোট আটটি প্যাকেজে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। প্যাকেজ-১ ডিপো এলাকার ভ‚মি উন্নয়নের কাজ দেওয়া হয়েছে টোকিও কনস্ট্রাকশনকে, তারা শতভাগ কাজ শেষ করেছে। প্যাকেজ-২ ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ দেওয়া হয়েছে আইটিডি এবং চীনা কোম্পানী সিনোহাইড্রোকে।

তারা এই কাজের ২০ ভাগ শেষ করেছে। প্যাকেজ-৩ ও ৪ উত্তরা নর্থ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণের কাজ আইটিডিকে দেওয়া হয়েছিল। তারা সেই কাজের প্রায় ২৫ ভাগ শেষ করেছে। প্যাকেজ-৫ আগারগাঁও থেকে কাওরানয়ান বাজার পর্যন্ত ৩ দশমিক ২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৩টি স্টেশন নির্মাণ কাজ দেওয়া হয়েছে টেককেন, আবদুল মোনেম এবং আবেদিন জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানিকে।

তারা এই কাজ শুরু করেছে। প্যাকেজ-৬ কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৯২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৪টি স্টেশন নির্মাণের কাজ গত ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে। প্যাকেজ-৭ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল সিস্টেমের কাজ দেওয়া হয়েছে এলএন্ডটি এবং মারুবিনিকে।

তারা এই কাজের প্রায় ২২ ভাগ শেষ করে ফেলেছে। প্যাকেজ-৮ রেল কোচ ও ডিপো ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহের কাজ দেওয়া হয়েছে মিৎসুবিশি ও কাওয়াসাকিকে। তারা এই কাজের প্রায় ২২ ভাগ ইতিমধ্যে শেষ করে ফেলেছে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ২৪ সেট মেট্রোরেল নিয়ে শুরু হবে এমআরটি লাইন-৬ এর যাত্রা। প্রতি সেট মেট্রোরেলে প্রাথমিকভাবে ৬টি করে কোচ থাকবে। তবে পরে আরো ২টি কোচ যোগ করে কোচের সংখ্যা ৮টিতে উন্নীত করার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। মেট্রোরেলের সুষ্ঠু পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে একটি অত্যাধুনিক অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার থাকবে।

বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল যেতে সময় লাগে তিন থেকে চার ঘণ্টা। মেট্রোরেল সেটা কমিয়ে আনবে ৩৭ মিনিটে। প্রতিটি স্টেশনে ৩ দশমিক ৩৭ মিনিটে উভয় দিকে ট্রেন থামবে। সম্পূর্ণ এলিভেটেড ও বিদ্যুৎচালিত ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে। এভাবে মেট্রোরেলে প্রতিদিন ৫ লাখ যাত্রী পরিবহন করা যাবে।