এবারও গেট ভেঙে মাঠে ঢুকবে ক্রীড়াপ্রেমিরা?

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:২২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০১৮ | আপডেট: ১:২৫:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০১৮

টিবিটি খেলাধুলাঃ ২০১৪ সাল। বাংলাদেশ ও নেপালের ফুটবল ম্যাচ সিলেটে। সেদিন দেখা মিলেছিল প্রায় ভুলতে বসা এক দৃশ্যের। গ্যালারি তো উপচে পড়ছেই, সাইডলাইনে দাঁড়িয়েও খেলা দেখছেন হাজার হাজার দর্শক!

চাপ এতটাই প্রবল ছিল যে একটা পর্যায়ে স্টেডিয়ামের দরজা ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন খেলা অন্তঃপ্রাণ সিলেটের মানুষরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়েছিল পরিস্থিতি সামাল দিতে।

সেই ম্যাচের চার বছর পর সিলেটের দর্শকদের দোরগোড়ায় এবার আস্ত একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপের গ্রুপপর্বের সবগুলো ম্যাচ এখানে। যদিও মাঠে ফুটবল গড়ানোর আগেরদিন উৎসাহী দর্শকদের সাড়াটা যেন আগেরবারের তুলনায় একটু বেমানানই!

সিলেট শহরে ঢুকতেই দেখা মিলছে আসরের ব্যানার-ফেস্টুন। শহরজুড়েই এমন দৃশ্য। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল মাইক দিয়ে এলাকায় এলাকায় বেশ প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সিলেটবাসী প্রায় সবারই জানা যে, এবার একটি টুর্নামেন্টের গ্রুপপর্বের সব ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। কিন্তু যেমনটা আশা করা হচ্ছে, তেমন সাড়া গ্যালারিতে পড়বে কিনা সে চিন্তা থাকছেই।

বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে রোববার থেকে। পরদিন সোমবার বাংলাদেশ-লাওস ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে আসর। অথচ টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার দিন প্রায় ফাঁকাই থাকল বিক্রির বুথ। দীর্ঘ অপেক্ষা পর ৫০ টাকা মূল্যের কয়েকটি টিকিট কিনতে দেখা গেল অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদের।

কেনো এমন ম্যাড়ম্যাড়ে অবস্থা? জানতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নাগাল মিলল না। বিনিময়ে স্থানীয় একজনের থেকে মিলল মজার এক তথ্য। জামিল নামের ওই ফুটবলপ্রেমী বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে জানালেন, ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার কাছে এবার মার খেয়েছে ফুটবল।

এ বছরই সিলেটে হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে সিরিজের কিছু ম্যাচ। দর্শকরা আশা নিয়ে চেয়ে আছেন সেই সিরিজের দিকে। সামনের বছর বিপিএল তো আছেই।

গত আগস্টে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ফুটবল ম্যাচ দেখতে ১ ঘণ্টার মধ্যেই টিকিট শেষ হয়ে গিয়েছিল নীলফামারীতে। সাফ ফুটবলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামেও অনেকদিন পর দেখা গেছে দর্শকদের ভিড়। ২০ টাকার টিকিট ১০০টাকাতেও কিনেছেন অনেকে। সিলেটের দর্শকদের কাছে ফুটবলের আশা তো আরও বড়।

অতীতে বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচ দিয়ে সিলেটবাসীর ক্রীড়াপ্রেমের বিষয়টি যেভাবে নজরে এসেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারতো টিকিটের জন্য রীতিমত হাহাকারই পড়ে যাওয়ার কথা! ম্যাচ সোমবার। রোববার টিকিটের জন্য ভিড় হয়নি বলে সেদিনও হবে না এমনও হয়ত নয়! ২০১৪ সালে ফুটবলের জন্য যে ভালোবাসা দেখিয়েছিলেন সিলেটের দর্শকরা, তেমন উচ্ছ্বাসের দেখা মিলবে কিনা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ম্যাচের দিন পর্যন্তই।