এবার ইউরোপেও কিশোরদের টিকাকরণের চিন্তা

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২৬ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২১ | আপডেট: ৯:২৬:অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২১

আরো কমবয়সিদের করোনা টিকার আওতায় আনতে বায়োনটেক কোম্পানি সাফল্য পাচ্ছে৷ তবে টিকার উপর মেধাসত্ত্ব তোলার বিরোধিতা করছে সেই কোম্পানি ও ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ দফতর৷

প্রাথমিক বিলম্বের পর ইউরোপে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য করোনার টিকাকরণ কর্মসূচিতে বেশ গতি আসছে৷ ফলে নতুন করে কোনো অঘটন না ঘটলে আগামী গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবার কথা৷ কিন্তু শিশু-কিশোররা এখনো টিকা নেবার সুযোগ না পাওয়ায় তাদের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে৷ ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়পত্রের পর পর এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নও ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সিদের জন্য চলতি মাসেই বায়োনটেক-ফাইজার কোম্পানির করোনা টিকা অনুমোদনের ইঙ্গিত দিচ্ছে৷

ডয়চে ভেলের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধপত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউরোপীয় এজেন্সি এমা-র প্রধান এমার কুক একাধিক সংবাদপত্রের সঙ্গে যৌথ সাক্ষাৎকারে করোনা টিকা সংক্রান্ত পরিকল্পনার একটা রূপরেখা তুলে ধরেছেন৷ সেইসঙ্গে করোনা টিকার মেধাসত্ত্বের উপর কোম্পানিগুলির অধিকার তুলে নেবার দাবির বিরোধিতা করেছেন তিনি৷ এ প্রসঙ্গে কুক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তুলনা করে বলেন, ইউরোপের মানুষের জন্য যত টিকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, তার প্রায় সমান পরিমাণ রপ্তানি করা হচ্ছে৷ অথচ অ্যামেরিকা খুব কম পরিমাণ টিকা দেশের বাইরে যেতে দিচ্ছে৷ তর মতে, মেধাসত্ত্ব তুলে নিলে বাস্তবের সমস্যাগুলির কোনো সমাধান হবে না৷ বরং টিকা রপ্তানির উপর দ্রুত বাধানিষেধ তোলার উপর জোর দিচ্ছে ইইউ৷

বায়োনটেক কোম্পানির প্রধান উগুর শাহিন সোমবার বলেছেন, করোনা টিকার উপর মেধাসত্ত্ব তুলে নেবার কোনো প্রয়োজন নেই৷ কারণ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলি নয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে গোটা বিশ্বের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক টিকা সরবরাহ করতে পারবে৷ ফাইজারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বায়োনটেক ৯০টিরও বেশি দেশে টিকা সরবরাহ করেছে৷ পরিকল্পনার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি টিকা উৎপাদিত হয়েছে৷ ২০২১ সালে প্রায় ৩০০ কোটি টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে বায়োনেক৷ শাহিন বলেন, এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে সরবরাহ করা হবে৷ উল্লেখ্য, বায়োনটেক কোম্পানি বছরের প্রথম তিন মাসেই প্রায় ১১৩ কোটি ইউরো মুনাফা করেছে৷

টিকাকরণ কর্মসূচির গতি বাড়লেও সতর্কতা বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেছেন এমা-র প্রধান৷ তার মতে, টিকার দুটি ডোজ পাবার পরেও কোনো ব্যক্তির উপর থেকে করোনা বিধি তুলে নেওয়া উচিত হবে না৷ কারণ নানা ধরনের মিউট্যান্টের ক্ষেত্রে একাধিক করোনা টিকার কার্যকরিতা সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না৷

ভারতের মতো দেশে করোনা মহামারি নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় গোটা বিশ্বে এই সংকটের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে৷ অদূর ভবিষ্যতে করোনা সংকট পুরোপুরি দূর হবার আশা করছেন না অনেক বিশেষজ্ঞ৷ তার উপর করোনা ভাইরাসের নতুন সংস্করণগুলি মোকাবিলা করতে কোন টিকা কতটা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে৷ যারা টিকা পাচ্ছেন, তাদের জন্যও ভবিষ্যতে বুস্টার ডোজের ব্যবস্থা করার কথা হচ্ছে৷ টিকা নবায়নের মাধ্যমে করোনার নতুন মিউট্যান্টগুলিকে কাবু করার ক্ষমতার লক্ষ্যে গবেষণা চালাচ্ছে একাধিক কোম্পানি৷