এবার কোচিং বাণিজ্যে আবহাওয়া অফিস কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৩৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮

প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর নজরদারি ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। অথচ খোদ সরকারি কর্মকর্তা খুলে বসেছেন কোচিং সেন্টার।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তথ্য নিতে গেলে এক সাংবাদিক ও তার বাবাকে মারধর করা হয়েছে সন্ত্রাসী দিয়ে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন হবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক রহিদুল ইসলাম নিজে ব্যাচেলর জীবনযাপন করেন। আবহাওয়া অফিসে তার তেমন কাজ কর্ম থাকে না। সে কারণে একক সিদ্ধান্তে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাচেলর কোয়ার্টারেই খুলে বসেন কোচিং সেন্টার।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সংরক্ষিত এলাকার ভেতরে এলাকার ছাত্র/ছাত্রীরা প্রাইভেট পড়তে আসে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের পর গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় কথাবার্তা চলছিলো। তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তার কাছে মাসিক পাঁচশ টাকায় প্রাইভেট পড়ে থাকে। গণিত ও প্রদার্থবিদ্যা বিষয়ে তিনি প্রাইভেট পড়ান।

সরকারি এই কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়েও টিউশনি করান। বাড়িতে গিয়ে টিউশনি করাতে দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা করে নেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি তার অফিস নিজের বাড়ির মতো করে ফেলেছেন। প্রাইভেট পড়ানো ছাড়াও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভেতরে অশোভন কাজ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পঞ্চগড় জেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানা ইতোপূর্বে ওই কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেন, প্রয়োজনে আলাদা স্থানে কোচিং সেন্টার দিতে। বিষয়টি জানিয়ে ফেসবুকেও অনেকে প্রতিবাদ করেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে কোচিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন তার ব্যাচেলর কোয়ার্টারেই।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আবহাওয়া অফিসে যান স্থানীয় সাংবাদিক রতন। এতে ক্ষুব্ধ হন ওই কর্মকর্তা। তিনি তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি কতো টাকা চান?

ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি হতবিহবল হয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। এরপর ওই কর্মকর্তার ইন্ধনে রতনকে তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজার থেকে তুলে নিয়ে মারধর করতে থাকে কতিপয় মাদকাসক্ত সন্ত্রাসী। নিজের ছেলেকে বাঁচাতে রতনের বাবা মনিরুজ্জামান সেখানে উপস্থিত হলে তাকে ধরেও মারধর করতে থাকে সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয় সাংবাদিক রতন জানান, আমি তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন আবহাওয়া সহকারী রহিদুল ইসলাম। এমনকি তার লোকজন দিয়ে আমার ও আমার বাবার ওপর হামলা করান।

রতনের পিতা নির্যাতিত মনিরুজ্জামান বলেন, আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে। সেখানে সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু উপস্থিত ছিলেন।

কোচিং সেন্টার বন্ধের যেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে সেখানে কীভাবে আবহাওয়া অফিস কর্মকর্তা কোচিং সেন্টার চালান এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) সানাউল হক মণ্ডল বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তেঁতুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মারধর বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

তেঁতুলিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া বলেন, আমরা ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন। একটি সংরক্ষিত এলাকায় নিজ কার্যালয়ে তিনি কখনই শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতে পারেন না। আমরা এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানিউল ফেরদৌস জানান, আমি স্টেশনের বাইরে আছি। বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি অফিসে ফিরেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়া সহকারী রহিদুল ইসলাম আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভেতর প্রাইভেট পড়ানোর কথা স্বীকার করে জানান, আমরা আট ঘণ্টা করে শিফট হিসেবে কাজ করি। যখন আমার কাজ থাকে না তখন প্রাইভেট পড়াই।