এবার হাটে হাড়ি ভাঙলেন ট্রাম্প টাওয়ারের পাহারাদার!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৫৪:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০১৮

এমনিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক এবং খবরের কোনো অভাব নেই। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেল এবারের বিতর্ক। এবারের বিতর্কের পেছনে রয়েছেন ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড টাওয়ারের সাবেক এক পাহারাদার।

পাহারাদারের দাবি নিজের গৃহকর্মীর সঙ্গে নাকি বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এমনকি সেই সম্পর্কের জেরে তাদের একটি সন্তানও হয়েছিল! এমনই বিতর্কে এখন সরগরম মার্কিন মুল্লুক।

ডিনো সাজুডিন নামে ওই পাহারাদারের দাবি, ট্রাম্প টাওয়ারে চাকরি করার সময় ট্রাম্পের সাবেক এক গৃহকর্মীর সমালোচনা করতে তাকে নিষেধ করা হয়েছিল, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সেই গৃহকর্মীর বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল এবং তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য তখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হননি। কিন্তু এতদিন কেন চুপ ছিলেন ওই পাহারাদার?

ডিনোর আইনজীবী মার্ক হেল্ড গত শুক্রবার জানান, ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর ‘আমেরিকান মিডিয়া ইনকরপোরেশন’ (এএমআই) তার মক্কেলের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। চুক্তিতে বলা হয়, ‘খবরটির স্বত্ত্ব আমরা কিনে নিচ্ছি। এখন থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারবেন না ডিনো। এর জন্য ৩০ হাজার ডলার দেওয়া হবে তাকে। চুক্তি ভাঙলে ডিনোকে ১০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হবে।’ এই চুক্তির কারণেই ২০১৫ সাল থেকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি ডিনো।

আইনজীবীর দাবি, মার্কিন ট্যাবলেয়ড ‘দ্য ন্যাশনাল ইনকোয়ারার’-এর মালিকপক্ষ এএমআই সম্প্রতি ওই চুক্তি থেকে ডিনোকে মুক্তি দিয়েছে। তাই এখন আর এ নিয়ে কথা বলতে কোনো অসুবিধা নেই তার মক্কেলের।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এএমআইয়ের সঙ্গে ডিনোর করা চুক্তিপত্রের একটি কপি তাদের হাতে রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলেই তারা বিষয়টি জানতে পারে। ট্রাম্প টাওয়ারের পাহারাদার ডিনো সাজুডিন নিজে তাদের ‘ট্রাম্পের অবৈধ সন্তানে’র খবর দিয়েছিলেন। তবে সে সময় ‘আমেরিকান মিডিয়া ইনকরপোরেশন’ জানিয়েছিল, খবরটি সঠিক নয়। সে সময় হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারাও কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সেই অর্থে কোনো সূত্র থেকেই ‘অবৈধ সন্তান’ তত্ত্বের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি সিএনএন।

কিন্তু চার মাসের মধ্যেই চুক্তির সত্যতা সামনে চলে আসায় স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে প্রেসিডেন্টের অবৈধ সন্তানের তত্ত্ব ঘিরে! যুক্তি একটাই, সন্তান যদি না-ই থাকে, তবে গোপনে চুক্তি কেন?

অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) আবার দাবি, ট্রাম্পের তৎকালীন অ্যাটর্নি মাইকেল কোহেন এ বিষয়ে অবগত ছিলেন। খবরটি নিয়ে পত্রিকার সঙ্গে কথাও বলেছিলেন তিনি। তবে কোহেন জানতেন না যে ট্রাম্প টাওয়ারের পাহারাদার ডিনো সাজুডিনের সঙ্গে পত্রিকার মালিক সংস্থার কোনো চুক্তি হয়েছিল। কোহেন নিজেও এখনও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।