এমন রাজধানী আমরা চাইনি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ৫:৫৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

রাস্তার পাশেই ডাস্টবিন। ডাস্টবিন ভরে ময়লা উপচে পড়ে মূল সড়কের চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। তার ওপরে বৃষ্টির পানি জমে রাস্তার খানাখন্দে হাঁটুপানি জমে গেছে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যেতে হয়। রাস্তার এমন অবস্থা; ময়লা ও দুর্গন্ধে নাকে রুমাল না চেপে হাঁটা যায় না। যাদের ওপরে এই সড়ক পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তারাও লাপাত্তা। এমন রাজধানী আমরা চাইনি। কষ্টে বুকটা ভারী হয়ে ওঠে। ছেলেকে একা স্কুলে পাঠাতে সাহস পাই না।

বেদনা ভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আফিমের বাবা রহমত উল্লাহ।

তিনি বলেন, রাস্তার পাশে বসানো হয় ডাস্টবিন। তার ওপরে ভাঙা রাস্তার গর্তে হাঁটুপানি জমে হাঁটাই বিপাকে। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত এ সড়ক দিয়ে ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে। এ ছাড়া যানবাহন চলাচল করে। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিশুদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরা চিন্তায় থাকি।

তিনি বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের এমন বেহাল দশা আমরা প্রত্যাশা করি না। আমরা এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।

সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী মাজার রোডে গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়কের গা ঘেঁষে বসানো হয়েছে ময়লার ডাস্টবিন। ডাস্টবিন থেকে আর্বজনা উপচে পড়ে মূল সড়কে ছড়িছে পড়েছে। ভাঙা রাস্তার খানাখন্দে জমে রয়েছে বৃষ্টির পানি।

শাহআলী মাজারের এই সড়কের পাশেই রয়েছে হযরত শাহ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, হযরত শাহআলী মহিলা কলেজ ও একটি কামিল মাদ্রাসা। এ সড়ক ধরে প্রতিদিন চলাচল করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও পথচারী।

সড়কের এই বেহাল দশার কারণে বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা। এছাড়া গণপরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহনগুলো চলছে ঝুঁকি নিয়ে। মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা। এ যেন সড়ক নয় মৃত্যুফাঁদ। এ ছাড়া দুর্গন্ধে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে এ এলাকার বাসিন্দারা।

মিরপুরের এই শাহআলী মাজার রোড গিয়ে মিশেছে গাবতলীতে। এখানে চলাচল করে গণপরিবহন।

বাসচালক আসাদ বলেন, রাস্তায় ময়লা পানি তার ওপরে গর্ত- ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। এই রাস্তা সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাহ আলী এলাকার বাসিন্দা রমজান মিয়া বলেন, অনেক দিন ধরেই রাস্তার এই অবস্থা। এছাড়া ভোর ৫টা থেকে বসে পাইকারি কাঁচাবাজার, চলে সকাল ৭টা পর্যন্ত। এই

সময়ে রাস্তায় প্রচুর ময়লা জমা হয়। এছাড়া ময়লার ডাস্টবিন তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে আমরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছি।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মিরপুর-২-এর সহকারী বর্জ্য ব্যবস্থাপক বাসুদেব সরকার বলেন, মাজার রোড এলাকায় ময়লা অপসারণের জন্য তিনটি ডাস্টবিন দেয়া হয়েছে। আমরা প্রতিদিন বর্জ্য পরিষ্কার করছি। এমনটি হওয়ার কথা নয়।

তিনি বলেন, আপনি যেহেতু বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন, ঘটনা সত্যি হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

-যুগান্তর।