এমসি কলেজে ধর্ষণ: সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলো ‘ধর্ষক’ সাইফুর

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ | আপডেট: ২:৫২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, ঘটনার পর পরই সে ছাতক চলে আসে। ভারতে পালানোর সুযোগ খুজতে থাকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক শহর সংলগ্ন নোয়ারাই ইউনিয়নের নোয়ারাই খেয়াঘাট থেকে ছাতক থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার সকালে ছাতক খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় থানার এসআই হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করে। পরে শাহপরাণ থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

ধর্ষক সাইফুর রহমান সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাই নিবাসী তাহিদ মিয়ার পুত্র। বর্তমানে (৫ম ব্লক, এমসি কলেজ হোস্টেল সুপারের বাংলো) শাহপরান সিলেটের বাসিন্দা।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনার পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ছাত্রাবাসে তার কক্ষে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ কয়েকটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সাইফুরের রুম থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে ঘুরতে এসেছিলেন ওই তরুণী। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রবাসে নিয়ে যায়।

সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণ করে তারা। রাত ১১টায় শাহপরাণ থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে ওই তরুণী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ছয় জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে শনিবার সকালে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী।

মামলার আসামিরা হলেন- এম সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান মাসুম। এদের মধ্যে চারজন ওই কলেজের শিক্ষার্থী। এছাড়া আরও তিন জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ইতিমধ্যে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি সাইফুর ছাড়াও মামলার চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এনিয়ে আলোচিত এই গণধর্ষণ মামলার দুই আসামি গ্রেফতার হলেন।