এরদোগানকে উৎখাতে হিলারির সমর্থন!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৫৮:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৮

আমেরিকা ও তুরস্কের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা দেশ দুটির অভ্যন্তরীণ বিষয় হয়ে থাকেনি। এটা আন্তর্জাতিক বিশ্বকেও নাড়া দিয়েছে। এসবের পরিণতি কী হতে পারে সেটাই এখন কৌতুহল সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত তুরস্কের পুলিশ কর্তৃক দেশটিতে বসবাসরত আমেরিকান ধর্মযাজক এন্ড্রু ব্রানসনকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে। প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ২০১৬ সালের ব্যর্থ কিন্তু রক্তক্ষয়ী ক্যুতে অর্থ সহযোগিতার অভিযোগে ব্রানসনের এখন তুরস্কের আদালতে বিচার চলছে। সর্বশেষ তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সেই ক্যু প্রচেষ্টার জন্য তুরস্ক সরকার তুর্কি নাগরিক ফেতুল্লাহ গুলেনের সন্ত্রাসী সংগঠন ফেতোকে দায়ী করে। ফেতুল্লাহ গুলেন এখন আমেরিকায় বসবাস করছেন। গুলেনসহ আমেরিকায় আশ্রয় নেয়া ক্যু প্রচেষ্টায় জড়িতদের তুরস্কের হাতে তুলে দিতে বললেও আমেরিকা দেশটির কথায় কর্ণপাত করেনি।

এন্ড্রু ব্রানসনের গ্রেফতার ও জামিন না হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প টুইটারে পোস্ট করে তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং তুর্কি পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তুর্কি মুদ্রা লিরার বেশ দরপতন হয় এবং তুর্কি বাজারে কিছু অস্থিরতা তৈরি হয়।

এভাবেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। অথচ দেশ দু’টি দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের কৌশলগত বন্ধু।

সত্যিকার অর্থে, ফেতো সদস্যদের আশ্রয় দেয়া এবং সিরিয়া যুদ্ধে পিকেকে এবং ওয়াইপিজি গ্রুপকে অস্ত্র সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে আমেরিকা তুরস্কের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।

স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় কুর্দিরা লড়াই করছে। কুর্দিরা বাশার আল আসাদের সেনাবাহিনীকে হটিয়ে কুর্দি অধ্যুষিত উত্তর সিরিয়া দখল করে রেখেছে।

সিরিয়া ও তুরস্কে কুর্দি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গ্রুপ পিকেকে, ওয়াইপিজি এবং ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টির তৎপরতা এবং তাদেরকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আমেরিকা সহযোগিতা করায় তুরস্ক বেশ উদ্বিগ্ন। এসব বিষয়ে আমেরিকাকে বারবার বললেও তুরস্কের কথায় ডোনাল্ট ট্রাম্প প্রশাসন কর্ণপাত করেনি।

এই অচলাবস্থা আমেরিকার নির্বাচনে তুরস্কের হস্তক্ষেপের জন্য হয়নি অথবা ব্রানসনের ঠুনকো অজুহাতে হয়নি। বরং এটা বলা যেতে পারে, ট্রাম্পের চেয়ে হিলারী ক্লিনটন তুরস্কের ব্যাপারে কঠোর হতেন। তিনি আগে থেকেই ফেতোর সাথে সম্পর্ক রেখেছিলেন। হিলারী হয়তো ট্রাম্পের চেয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নিতেন। আমি নিশ্চিত ১৫ জুলাইয়ের ক্যু হিলারী ক্লিনটন সমর্থন করেছিলেন।

তুরস্কের কিছু বুদ্ধিজীবী বলছেন, ‘যারা ট্রাম্প প্রশাসনের আগমনে খুশি হয়েছিলেন তারা এখন ট্রাম্পের বিদায় কামনা করছেন। কিন্তু মাইক পেন্স তো আরো ভয়ংকর। তখন আপনারা কী বলবেন?’

কোন দেশের জাতীয় স্বার্থ ও অবস্থান সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তীত হয়। এর মানে এই না যে, একজন রাজনীতিবিদ এখন আপনার জন্য যা করছেন তা তিনি সবসময়ই করতে থাকবেন।

আমেরিকার শাসক কে সেটা তুর্কির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখন ট্রাম্প আছে, পেন্স হয়তো প্রেসিডেন্ট হতে পারে অথবা হিলারী ক্লিনটন তাদের যে ব্যক্তিই প্রেসিডেন্ট থাকুক না কেন তুর্কির ব্যাপারে সবাই একনীতি গ্রহণ করবেন।

বিষয় হচ্ছে দেশ হিসেবে তুরস্ক এবং আমেরিকার স্বার্থ এখন এক নয়। এটাই হচ্ছে মুল চাবিকাঠি।

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের তুরস্ক চাচ্ছে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে এবং ভারসাম্যহীন বিশ্বকে পরিবর্তন করতে। কিন্তু ডোনাল্ট ট্রাম্পের আমেরিকা তা মেনে নিতে রাজি নয় এবং আক্রমন অব্যাহত রেখেছেন।

ডোনাল্ট ট্রাম্পের মতো রাজনীতিবিদরা হয় আলোচনা করে উত্তেজনা স্তিমিত করতে পারেন নতুবা রাজনৈতিক কুটচাল দিয়ে উত্তেজনা আরো ছড়াতে পারেন।

লেখক: মাহমুত ওভুর, তুর্কি কলামিস্ট।
তুর্কির জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা ডেইলি সাবাহ’য় `The fight against US hegemony’ শিরোনামে প্রকাশিত কলাম অবলম্বনে।