‘এরপরে’? দ্যাটস দ্য মিলিয়ন ডলার কোয়েশ্চেন

প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৮ | আপডেট: ৮:১০:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৮
ডা. যায়নুদ্দিন সানী। ছবি: ফেসবুক

সংলাপ-কাহিনীর আপাতত ইতি। সাত দফা নিয়ে যাত্রা শুরু করে অবশেষে শূন্য দফা পূরণের মাধ্যমে কাহিনির ইতি। সংলাপের সময়ে অনেকেই বলেছিলো, কিসসু হবে না। অনেকে বলেছিলো, সংলাপে বসতে রাজি তো হয়েছে, আগে তো সেটাও রাজি হয়নি। সামনে আরো কিসে কিসে রাজি হতে বাধ্য হয়, দেখো। আন্তর্জাতিক চাপ আছে, দাবি না মেনে যাবে কই? ফলাফল? ওয়াও।

সংলাপে গিয়ে ভালো করেছে না খারাপ করেছে, তা নিয়ে বিতর্ক করার ইচ্ছে নেই। আমি বরং পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বলি। বিএনপি যেমন কাদায় পড়েছে, তাদের সামনে ছিলোই দুটো রাস্তা। হয় নির্বাচনে যাওয়া, আর নয়তো বয়কট করা। যেসব বুদ্ধিজীবী সারাক্ষণ বুদ্ধি দিয়ে বেড়ান, তারাও দুভাগে বিভক্ত ছিলেন। একদলের কথা ছিলো, নির্বাচনে না যাওয়া হবে চরম ভুল। যেমনটা করেছিলো আগের নির্বাচনে না গিয়ে। অন্য গ্রুপের নসিহত ছিলো উল্টোটা। এই পাতানো নির্বাচনে যাওয়ার মতো বোকামি আর হয় না।

গত প্রায় মাস ছয়েক, বিভিন্ন টিভি চ্যানেল আর পত্রিকার কলামিস্টদের আলোচনার টপিকই ছিলো, বিএনপি নির্বাচনে না গেলে, কী হবে আর গেলে কী হবে। ভবিষ্যৎদ্রষ্টারা ট্যারো নিয়ে ভবিষ্যতের যে ফিরিস্তি দিতে শুরু করলেন, মনে হলো, এই কিছুক্ষণ আগেই তারা টাইম মেশিনে চড়ে ভবিষ্যৎ দেখে এসেছেন। টিভি চ্যানেল আর পত্রিকায় সেসব ফিরিস্তি দেদারসে পাওয়া যাচ্ছিলো।

এসব দেখে যদিও মনে হতে পারে, বিএনপি ওয়াজ ইন ডাইলেমা, আসলে তা নয়। কাহিনি এতোটা আনপ্রেডিক্টেবল টাইপ ছিলো না। টকশোজীবীরা ব্যাপারটাকে যতোটা সাসপেন্স টাইপ বানিয়ে তুলেছিলেন, আসল কাহিনি এতোটা আনপ্রেডিক্টেবল না। এমন না যে, ব্যাপারটা ফিফটি ফিফটি ছিলো। বিএনপি যে নির্বাচনে যাবে, তাদেরকে হারানো হবে জেনেই যে যাবে, তা অনেক আগেই ডিসাইডেড ছিলো। আর কমবেশি সবাই তা জানতো। ইট ওয়াজ ওপেন সিক্রেট। শুধু তাই নয়, সংলাপে যে কোনো দাবিই মানা হবে না, এটাও বিএনপির অজানা ছিলো না। তারপরও ‘আই ডোন্ট নো’ এই নাটকগুলো করে কেন সময় কাটালো? মে বি উই লাইক ড্রামা কিংবা, হতে পারে, ‘যদি কিছু ভিক্ষা দেয়’।
Add Image
পরিস্থিতির সাথে কিসের তুলনা দেয়া যায়? এক লাখ টাকার ডায়মন্ড জুয়েলারি দশ টাকায় দিতে বললে দোকানির কাছে কী আশা করেন? এতো কষ্ট করে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে কেন? নির্দলীয় সরকারের দাবি মানার জন্য? তা তো নয়। সো দশ টাকায় ডায়মন্ড জুয়েলারি আশা করাটাই তো বোকামি ছিলো। এই দাবি মেনে নিজের পায়ে কুড়াল মারার মতো গবেট আওয়ামীরা না। সো, দাবিটা যে সরকার মানবে না, তা আওয়ামীরাও জানতো, বিএনপিও জানতো। স্টিল, দামদর করা দেখলাম।

হ্যাঁ। কিছু ব্যাপার চাইলেই মানতে পারতো। মনে হয়েছিলো, খালেদা জিয়াকে প্যারোল-ফ্যারোলে মুক্তি দিলেও দিতে পারে। তবে আওয়ামী নেত্রীর যেমন স্বভাব, নমনীয় ভাবে চাইলে, রিকোয়েস্টিং টোনে, হাত কচলে, হুজুর হুজুর করে চাইলে, দিলেও দিতে পারতো। আর তেমনটা না করে, ‘না দিলে তোকে দেখে নেবো’ টাইপ টোনে বললে, কী হবে, তা তো বলাই বাহুল্য। এখনো সিওর না, আগামী কিছুদিনের ভেতরে কী হবে।

একটা ব্যাপার অবশ্য স্বীকার করতে হবে। সময়টা খারাপ কাটেনি। জানা কাহিনিগুলো, টিভি আর পত্রিকার কলামিস্টদের কল্যাণে, দেখতে খারাপ লাগেনি। নাটকটা বিশ্বাসযোগ্য করতে সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। মাঝে মাঝে কিছু কমিক সিন ছিলো। খাবারে মেনু থেকে শুরু করে ‘লিক হওয়া গল্প গুজব’ সবকিছুই আনন্দের খোরাক জুটিয়েছে।

দেশে এমন ঘটনা ঘটবে আর ফেসবুক চুপ থাকবে, তা কী হয়? কাহিনি যখন মঞ্চায়িত হচ্ছিলো, তখন ফেসবুকে চলছিলো রানিং কমেন্ট্রি। সাথে ছিলো আওয়ামী আর বিএনপি ফেসবুকারদের লম্ফঝম্ফ। বিভিন্ন সমাবেশ নিয়ে কিচিরমিচির তো চলছিলোই। সরকার বাস বন্ধ করছে, গায়েবি মামলা দিচ্ছে এসব নাকি কান্না যেমন ছিলো, অন্যদিকে ‘লিস্টি দেন, আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি’ টাইপ আশ্বাসও ছিলো।

কিছুটা হলেও সাসপেন্স তৈরি হয়েছিলো। ডা. কামাল সাহেব, প্রখ্যাত ব্যারিস্টার, নেগোশিয়েশানের টেবিলে কী করেন, তা দেখার জন্য। সেটা চরমভাবে ফ্লপ করলো। আর এরপরে শুরু হলো কথার কারুকাজ। নিজেদের অসহায়ত্ব কতোটা নরমভাবে বলা যায়, তার চেষ্টা। মুখে যতো কথাই বলুক, ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যে সত্য কথাটা না বলার চেষ্টা বিএনপি করছে, তা হচ্ছে, ‘আন্দোলন করে আওয়ামী সরকারের পতনের ক্ষমতা আমাদের নেই। সো, নির্বাচনে যাচ্ছি’।

কাহিনির যে কয়টা অংশ খুব ভালো বোধগম্য হচ্ছে না, তা হচ্ছে, ঐক্য কেন করেছিলো? বিদেশি কোনো প্রভু কি কোনো আশ্বাস দিয়েছিলো? যদি দিয়ে থাকে, এখন তারা কী বলছেন? আশীর্বাদের হাত সরিয়ে নিয়েছেন? আওয়ামী নেত্রী যেভাবে কনফিডেন্টলি পুরো ব্যাপারটা ডিল করেছেন, তাতে মনে হচ্ছে, অপর পক্ষের কোচের সাথে তারও যোগাযোগ ছিলো।

সো। হোয়াট ইজ দ্যা বটম লাইন? ইজ সংলাপ ডেড? উইথ জিরো অ্যাচিভমেন্ট? বিএনপি এখন কোমর বেঁধে নেমে পড়বে নির্বাচনি যুদ্ধে? মনে হচ্ছে। এরপরে? দ্যাটস দ্য মিলিয়ন ডলার কোয়েশ্চেন।

লেখক: যায়নুদ্দিন সানী
চিকিৎসক ও কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, আমাদের নতুন সময়।

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ টুডে এবং বাংলাদেশ টুডে-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)