এশিয়ার ‘পরবর্তী বাঘ’ হওয়ার পথে বাংলাদেশ

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:২১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১ | আপডেট: ৬:২৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। এর মধ্যেই ২০২০ সালে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সমান্য হলেও বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়ছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করা বিভাগ ইউএন ডেসার (ইউনাইটেড ন্যাশনস ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাংলাদেশের জিডিপি বেড়ে ০.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা বাংলাদেশ এখন এশিয়ার “পরবর্তী বাঘ” হওয়ার পথে

একাত্তরে পাকিস্তান থেকে পৃথক হওয়া বাংলাদেশ এক সময় দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি ছিল। এছাড়া একনায়কতন্ত্র ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও দেশটির সর্বনাশ করেছিল। তবে এই দেশটি এখন যেভাবে নিজের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে, তা পাকিস্তানের জন্য একটি শিক্ষা। জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা বাংলাদেশ এখন এশিয়ার “পরবর্তী বাঘ” হওয়ার পথে। ঋণ এবং মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে মাইল দূরে রেখে যাওয়ার পরে এখন এই দেশটির জিডিপির ক্ষেত্রেও অগ্রগতিও ঈর্ষণীয়।

আইএমএফ রিপোর্টে কী বলে?

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি $২২ বিলিয়ন ডলারে (২৩.১৮ হাজার কোটি) পৌঁছে যাবে। শুধু তাই নয়, এই বছরের শেষদিকে একজন গড় বাংলাদেশী নাগরিক একজন পাকিস্তানের চেয়ে কয়েকগুণ ধনী হয়ে উঠবেন।

নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছিল এবং সেখান থেকে দেশের উন্নয়নের পথ অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দেশটি পাকিস্তানের চেয়ে আরও বেশি এগিয়ে গেছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশের জিডিপি সঞ্চয় ছিল ৩৯.৯ এবং পাকিস্তানের ছিল ২০.৪ ও ২০১৩ সালে ২০.৮।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৮ মিলিয়ন বা ৮০ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছে। শুধু তাই নয়, এক দশকে মাথাপিছু আয় তিনগুণ বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, আগামী দশ বছরের মধ্যে দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সঙ্কট লড়াইয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষে থাকতে পারে।

জিডিপিতে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে  বাংলাদেশ

২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৮.৮ শতাংশ, যা ভারতের জিডিপি তুলনায় কিছুটা কম। এদিকে, পাকিস্তানের জিডিপি আটকে আছে ৫.৮ শতাংশে। মাথাপিছু ঋণের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ব্যবধান ছিল যথাক্রমে $৪৩৪ ও $৯৭৪ ডলার। এই সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পাকিস্তানের তুলনায় চারগুণ বেড়েছে। ২০১৩ সালে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল $৩২ বিলিয়ন ডলার, অন্যদিকে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ছিল মাত্র $৮ বিলিয়ন ডলার।

কেন বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্ন অগ্রগতিতে আছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে বাংলাদেশের। দেশটি এখন অনেক সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে এগিয়ে গেছে। এখানে বেশ কয়েকটি স্তরের বিনিয়োগে বাংলাদেশী শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। অনেক এনজিও এমনভাবে কাজ করে যে পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ সমাজ ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখানের এনজিওগুলি খুব সামান্য হস্তক্ষেপ করে এবং স্বাস্থ্যসেবা, স্কুল, ব্যাংক এবং দুগ্ধখাতে ধারাবাহিকভাবে আরও ভাল কর্ম সম্পাদন করে যাচ্ছে। এছাড়াও টেলিফোন পরিষেবা এবং জনস্বাস্থ্য সেবাও এই পরিবর্তনে ব্যাপক অবদান রেখেছে।

বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে বাংলাদেশ

২০১৮ সালে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ৪২তম স্থান অর্জন করেছে এবং বর্তমানে (সর্বশেষ ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী) এটি ২৯তম স্থানে রয়েছে। ২০১৪ সালে মানব উন্নয়ন সূচকের (এইচডিআই) অনুসারে, বাংলাদেশ ছিল প্রায় ০.৬০০৮ এবং পাকিস্তান ছিল ০.৫৬০০।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে আয়ের বৈষম্য সবচেয়ে কম ছিল। স্পষ্টতই পাকিস্তানের এই ‘সাবেক অংশ’টি এখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ভাবতে বাধ্য করছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরে অনেক দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ঘুরে দাঁড়াবে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে পাঁচ দশমিক এক শতাংশ, ভারতের সাত শতাংশ, পাকিস্তানের শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ, ভূটানের তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ, মালদ্বীপের নয় দশমিক নয় শতাংশ, আফগানিস্তানের চার দশমিক চার শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার তিনি দশমিক এক শতাংশ। বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে অনেক দেশ ঘুরে দাঁড়ালেও ঝুঁকি রয়েছে। কোভিড-১৯ বিশ্বকে কীভাবে আক্রান্ত করবে তার ওপর প্রবৃদ্ধি নির্ভর করছে।

কেননা, মহামারীর কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জিডিপি প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। দারিদ্র্য ও বৈষম্য দ্রুত গতিতে বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে ইউএন ডেসা।

সূত্র: আইএমএফ।