‘এস-৪00’ নিয়ে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে উত্তেজনা; এর সম্ভাব্য পরিণতি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ২:৪০:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মার্কিন সরকারের একদেশদর্শিতা ও কর্তৃত্বকামিতা ক্রমেই লাগামহীন, নজিরবিহীন ও সহ্য-সীমার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

মার্কিন মোড়লিপনায় আজ গোটা বিশ্বই অতিষ্ঠ। মার্কিন সরকার বিশ্বকে কেবল তারই মোড়লিপনার আওতায় রাখতে নানা ধরনের চাপ ও হুমকির ভাষা ব্যবহার করছে।

বৈরী সরকারগুলো ছাড়াও এমনকি মিত্র সরকারগুলোও ট্রাম্প সরকারের এক-কেন্দ্রিক স্বার্থান্ধ তৎপরতার শিকার হচ্ছে। মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সমরাস্ত্র বিষয়েও নাক গলাচ্ছে মার্কিন সরকার। ফলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর অনেক সরকারের সঙ্গেই ওয়াশিংটনের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।

মার্কিন মিত্র তুরস্কও আজ ট্রাম্পের মোড়লিপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার। তুরস্ক রাশিয়ার এস-ফোর হান্ড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থা কেনার উদ্যোগ নেয়ায় মার্কিন সরকার আঙ্কারাকে তা কিনতে নিষেধ করেছে এবং তুরস্ককে এফ-থার্টি-ফাইভ জঙ্গি বিমান সরবরাহ বন্ধ করে দেয়াসহ দেশটির ওপর নানা ধরনের চাপ জোরদার করেছে।

তুরস্কের পর এবার ট্রাম্প সরকার ভারতকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, নয়াদিল্লি যেন রাশিয়া থেকে ‘এস-ফোর হান্ড্রেড’ ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থাসহ অত্যাধুনিক রুশ অস্ত্রশস্ত্র কেনার পরিকল্পনা বাতিল করে; তা না হলে নয়াদিল্লির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে ওয়াশিংটন। মার্কিন আইন অনুযায়ী কোনো দেশ রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক অথবা নিরাপত্তাগত কিংবা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের সম্পর্ক রাখলেও দেশটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে ‘এস-ফোর হান্ড্রেড’ ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থা কিনতে চায় বলে নানা দিক থেকে তা মার্কিন সরকারের জন্য উদ্বেগজনক; নয়াদিল্লির উচিত অন্যান্য উৎস থেকে অস্ত্র কেনা এবং মার্কিন সরকার ভারতের প্রতিরক্ষার চাহিদাগুলো মেটানোর চেষ্টা করবে।

মার্কিন সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদারের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানো, ভারতের অস্ত্র বাজারের এক বড় অংশের যোগানদার হওয়ার আশা ও রাশিয়াকে এ বাজার থেকে বের করে দেয়াই ছিল ওইসব মার্কিন প্রচেষ্টার লক্ষ্য। কিন্তু রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনার ভারতীয় উদ্যোগ ভারত-মার্কিন সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ককে সংকটাপন্ন করে তুলবে।

সম্প্রতি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভও বলেছেন, রাশিয়াকে বিশ্বের অস্ত্র ও জ্বালানীর বাজার থেকে বের করার দুরাশা নিয়েই ওয়াশিংটন মস্কোর ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিশ্বের অস্ত্র-বাজারে আমেরিকার পর রাশিয়াই হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিক্রেতা। ভারত রাশিয়ার এস-৪০০ বিক্রির ব্যাপারে মস্কোর সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত করেছে এবং এ দুই দেশই এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোকে অকার্যকর করার উপায় বের করতে সচেষ্ট।