ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর, সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০ | আপডেট: ৯:১০:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: আগামীকাল রবিবার ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশ মাতৃকার টানে বাংলার দামাল ছেলেরা জীবন বাজি রেখে বর্বর পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে হানাদাররা সুনামগঞ্জ শহর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।

১৯৭১ সনের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিজের হটিয়ে সুনামগঞ্জের হাওরের নৌপথে ও সড়কপথে সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি অভিযানে শহর শত্রুমুক্ত হওয়ায় জনতা রাস্তায় নেমে আসে। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা শহর। ওই দিনই ওড়ানো হয় লাল সবুজের বিজয় নিশান।

সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন,মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,সুনামগঞ্জ প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান,দক্ষিণ দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পালানোর পথ রেখে বালাট সাব সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা সুনামগঞ্জ শহরকে শত্রুমুক্ত করতে উদ্যোগ নেন তাঁরা। ৫ ডিসেম্বর রাতে বালাট সাব সেক্টরের কমান্ডার মেজর মোতালিব,ভারতীয় ক্যাপ্টেন যাদব ও ক্যাপ্টেন রঘুনাথ ভাট বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে দখলদার বাহিনীর ওপর চরম আঘাত হানতে চারটি কম্পানি প্রস্তুত করেন। এ কোম্পানিকে যোগীরগাঁও, বি কোম্পানিকে হালুয়ারঘাট, সি কোম্পানিকে হাছননগর, ডি কম্পানিকে ভাদেরটেক লালপুর থেকে আক্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া এফ কোম্পানিকে বেরীগাঁও-কৃষ্ণনগরে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু দক্ষিণ দিক উন্মুক্ত রেখে যৌথ আক্রমণে নামেন মুক্তিযোদ্ধারা। কোম্পানিগুলোকে সার্বিক রসদ সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয় এডিএম কম্পানিকে। বনগাঁও সদর দপ্তরেও অতিরিক্ত এক প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা প্রস্তুত ছিলেন যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে। মুক্তিযোদ্ধাদের অতর্কিত ও যৌথ আক্রমণের খবরে ভীতসন্ত্রস্ত পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করে।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পালানোর সময় সুনামগঞ্জ পিটিআই টর্চার সেলে কয়েকজনকে হত্যা করে,কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে আহসানমারা সেতুর পাশে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এখান থেকে মুক্তিযোদ্ধারা অনেক মানুষের হাড়গোড়,নারীদের কাপড় চোপড়সহ বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার করেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রিমুখী আক্রমণের খবর পেয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দক্ষিণের সড়ক ও হাওরপথে পালিয়ে যায়।

৬ ডিসেম্বর ভোরেই মুক্তিযোদ্ধারা জয় বাংলা স্লোগানে রাস্তায় নেমে আসলে সর্বস্তরের মানুষ তাঁদের অভিনন্দন জানায়। দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর হাজার হাজার নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে মুক্তির উল্লাসে মেতে ওঠে।