ওপারে আকাশ কারাগারে মিতু, কোন বন্ধুকেও ছাড় নয় : সিএমপি 

এস. এম. আকাশ এস. এম. আকাশ

ব্যুরো চিফ,চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৯ | আপডেট: ৫:০১:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

স্ত্রীর পরকিয়া সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে ওপারে চলে গেলেন স্বামী চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। তবে আত্মহত্যায় প্ররোচণার দায়ে আটক হয়েছেন স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী ওরফে মিতু। তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। এমনকি স্ত্রী মিতুর কোনো বন্ধু যদি প্ররোচণা দিয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তসাপেক্ষে তাদেরও আটক করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

আজ (১ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে মিতুকেও আনা হয়। তবে তাকে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

চিকিৎসক আকাশ চন্দনাইশ উপজেলার বরকল বাংলাবাজার এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। তিনি ২০১৬ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন মিতুকে। পরবর্তীতে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে তিনি মৃত্যুর আগে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন। স্ট্যাটাসটি দেওয়ার সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
আকাশের পরিবার জানিয়েছে, চান্দগাঁও থানায় তারা মামলা দায়ের করবেন। তাঁরা বিচারের আশায় রয়েছেন। তবে পরিবার মামলা না করলে আকাশের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের ‘ডায়িং ডিক্লারেশন’ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন পুলিশ।

এ সময় নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি বাসায় চিকিৎসক আকাশ ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শিরায় বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার আগে বুধবার দিবাগত রাতে আকাশের সঙ্গে স্ত্রী মিতুর কথা-কাটাকাটি হয়। রাত ৪টার দিকে মিতু তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে আকাশ তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের একাধিক অভিযোগ এনে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আরও বলেন, আকাশের স্ত্রী মিতুকে গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরের নন্দনকানন এলাকার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীর অভিযোগের বিষয়ে কিছু স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। আর কিছু বিষয় এড়িয়ে গেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার দেবদূত মজুমদার, চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার, ওসি (তদন্ত) জোবাইর সৈয়দ প্রমুখ।