ওবায়দুল কাদেরের আক্ষেপ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ | আপডেট: ৩:০০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংসদে আগামী অধিবেশনই হবে এই সরকারের শেষ অধিবেশন। এ অধিবেশনেই পাস হবে ‘সড়ক-পরিবহন আইন-২০১৮’। মঙ্গলবার বিকেলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমি মাঝে মাঝে বলি আমাদের পলিটিক্সটা যদি ঠিক হতো তাহলে বাংলাদেশের সব ঠিক হতো। এখানেই আমাদের মূল সমস্যা। গত বছর পর্যন্ত মোটরসাইকেলে একজন হেলমেট ব্যবহার করতো, আরেকজন করে না। ঢাকা সিটিতে পরিবর্তন হয়েছে, উল্টোপথে চলাচল অনেক ইমপ্রুভ করেছে। কিন্তু আপনি যখন দেখবেন এক্সসেপশন, তিনজনই হেলমেট নাই। এরা পলিটিশিয়ান, এরা রাজনীতির লোক, দে ডু নট কেয়ার, তারা কেয়ার করে না। আমি এজন্যই বলি আমরা পলিটিক্সটা, শৃঙ্খলা ফেরাতে পারি তাহলে সব জায়গায় শৃঙ্খলাটা ইজি হয়ে যাবে।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, এই প্রবণতাটা বন্ধ করার চেষ্টা করছি, এখনও করে যাচ্ছি। আমি কিন্তু হাল ছাড়িনি। শেষ পর্যন্ত, যতক্ষণ আমার হাতে দায়িত্ব। চেষ্টা করলে হবে না এটা মনে করি না। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে ডিভাইডার দিয়ে কি হবে! উল্টা দিকে গ্যাপ থাকলে মা তার বাচ্চা নিয়ে লাফ দেয়। কেউ কথা শুনে না। ঢাকা সিটিতে কেউ নিয়ম-কানুন মানে না। রেকলেস চালকের সাথে রেকলেস পথচারীরাও দায়ী, বর্ষাকালে জলজট, জনজট ও যানজট লেগে যায়। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে মেট্রোরেল পদ্মাসেতু এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করে লাভ হবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পরিবহন আইনটি পাস হওয়ার আগে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে যাবে। তখন আপনারা (সড়ক সংশ্লিষ্ট বিষেজ্ঞরা) চাইলে সংশোধন, পরামর্শ দিতে পারবেন। সংশোধন করা যাবে।

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা যে আন্দোলন করেছে, আমাদের চোখ আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, তাদের স্যালুট জানাই। তাদের কারণে আইনটি আলোর মুখ দেখেছে।

সভায় কলাম লেখক আবুল মকসুদ সড়ক পরিবহন আইন পুনঃবিবেচনা করে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। গত ২ বছরে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা কেন বাস্তবায়ন হয়নি তা পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামিয়ে দুর্ঘটনা ঘটনানো কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া বা ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালক দুর্ঘটনা ঘটালে ৩০২ ধারার মামলার বিধান রাখতে হবে।

খসড়া আইনের ধারা তুলে ধরে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের শাস্তি ২ বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। কিন্তু যার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই তার ৬ মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা। ধরা পড়লে তো ফেক লাইসেন্সধারী বলবে তার লাইসেন্স নেই। দুটি ক্ষেত্রেই ২ বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখতে হবে।