কক্সবাজারে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে পাহাড়ে বসবাসকারীরা

সফিউল আলম সফিউল আলম

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ | আপডেট: ১২:৪০:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯

সফিউল আলম,কক্সবাজার :কক্সবাজার শহরে পাহাড়ে বসবাসকারীরা উচ্ছেদ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। জেল গেইট, লাইট হাউজ, ফাতেরঘোনায় সরকারি জমিতে গড়ে উঠা বসতবাড়ি বিনা নোটিশে উচ্ছেদ করছে বলে দাবি ভুক্তভোগিদের। উচ্ছেদের প্রতিবাদে তারা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে এবং দুদক আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে ।

জানাযায়, সম্প্রতি সময়ে পাহাড় থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে তারা কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়ক, কলাতলী সড়ক ও ডিসি অফিস সহ বেশ কিছু জায়গায় মিছিল মিটিং করে বেশ কিছুক্ষন অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের আশ^াসে আন্দোলনকারীরা দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে চলে যান।

এদিকে গত সোমবার (৪ ফেব্রæয়ারী) শহরতলীর ঝিলংজা ইউনিয়নের জেলগেইট সংলগ্ন বাইপাস সড়কের দক্ষিণপাশে শিয়াপাহাড় এলাকায় ৪০টি বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে দুদক ও প্রশাসনের একটি যৌথ দল। এসময় অভিযানকারীরা ওই পাহাড়ে থাকা আরও দেড় শতাধিক পরিবারকে এক সপ্তাহের মধ্যে বসতভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়। বর্তমানে কক্সবাজারে পাহাড় ও সরকারি খাসজমিতে বসবাসকারীদের মধ্যে উচ্ছেদ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দুদক প্রথম বারের মতো গত ৩০ জানুয়ারী শহরের ফাতেরঘোনা এলাকায় ১১৬টি বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। ঘরবাড়ি হারিয়ে বর্তমানে এসব পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বসতভিটা ফেরতের দাবীতে তারাও একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কেউই একবার খবরও নেয়নি। স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনারের পরিবার এসব লোকজনকে দৈনিক দুইবেলা খাবার বিতরণ করে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। মানবতার শহরে এই ধরণের অমানবিকতার চিত্র মেনে নেওয়া যায় না বলে মনে করছেন আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সম্বনয়ক কমরেড কলিম উল্লাহ।দুদককে বিতর্কিত করতে এই ধরণের লিপ্ত করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

পৌর ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোরশেদ আহমেদ বাবু বলেন, উচ্ছেদ না করে বসবাসকারী মানুষের কান্না থামাতে জেলা প্রশাসক বরাবরে আমরা খাসজমি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি,এতে করে আমরা নিয়মিত সরকারের খাজনা (রাজস্ব) দিয়ে ভূমি রাজস্ব খাতে অবদান রাখা সম্ভব হবে। হাজার হাজার মানুষের ঠিকানা নিশ্চিত করতে সরকারী জমিতে বসবাসকারীদের নামে জমি বন্দোবস্ত করার ব্যবস্থা করতে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রæত হস্থক্ষেপ কামনা করছি। একই সাথে উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা লাইট হাউজ, ফাতেরঘোনার প্রায় ৪ হাজার পরিবারকে জমি বন্দোবস্ত দিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্বারকলিপি দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা। অথচ উচ্ছেদ হওয়া মানুষ গুলো নিয়িমত পৌর কর, বিদ্যুত বিল দিয়ে সরকারকে কোটি টাকায় রাজস্ব দিচ্ছে।

মানববন্ধনে অংশ নেয় শতাধিক শিশু। এরমধ্যে একজন তাহরিমা আক্তার (১০)। সে শিয়াপাহাড়ে উচ্ছেদের শিকার নির্মাণ শ্রমিক আজিম উল্লাহ’র মেয়ে এবং পাল্স ফ্যামেলিগেইট স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী।

তাহরিমা আক্তার জানায়, হঠাৎ কিছু লোক গিয়ে আমাদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে। আমাদের বইপত্রও ফেলে দিয়েছে, ছিড়ে ফেলেছে। স্কুলে যেতে পারছি না। বিদ্যুৎ না থাকায় কোথাও পানি মিলছে না। আমরা আমাদের বাড়ি ফেরত চায়।

ওই এলাকার মন্দিরের ভ্যান্তে প্রজ্ঞাপন ভিক্ষু বলেন, পাশর্^বর্তী দেশ মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি মানুষের আশ্রয় বাংলাদেশে হলেও এখন অল্প সংখ্যক দেশের নাগরিকের ঠাঁই হচ্ছে না। অথচ বাসস্থান একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, দেশে কোন বাসস্থানহীন মানুষ থাকবে না। আমরা মনে করি, উচ্ছেদের নামে অসহায় দরিদ্র লোকজনের মাথা গোঁজা ঠাঁই কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দেননি। তিনি অসহায়-দরিদ্র মানুষের পক্ষে। যদি শিগগিরই আমাদেরকে বসতবাড়ি ফেরত দেওয়া না হয় তাহলে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবো।

ছৈয়দ আলম বলেন, পাশর্^বর্তী দেশ মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি নাগরিককে এ দেশে স্থান দেয়া হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার একর পাহাড় কাটা হচ্ছে, বন ধ্বংস হচ্ছে। আর আমাদের সামান্য মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে বসতভিটাটুকু কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা এ দেশের নাগরিক আমাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব । আশা করি সরকার আমাদের দিকে সূদৃষ্টি দিবেন। ###