কক্সবাজারে মুজিববর্ষে ঘর পাচ্ছেন ৮৬৫ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার

শনিবার হস্তান্তর করা হবে ৩০৩ টি ঘর

সফিউল আলম সফিউল আলম

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২১ | আপডেট: ৮:৪৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২১

কক্সবাজার জেলায় মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ৮৬৫টি ঘর পাবে ভূমিহীন ও গৃহহীন উপকারভোগীদের পরিবার। প্রথম পর্যায়ে ৩০৩ টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সেই ঘর গুলি হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী ২৩ জানুয়ারী কক্সবাজারের ৮ উপজেলায় ৩০৩ টি ঘর হস্তান্তর করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী শনিবার ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জমি ও গৃহ প্রদানের উদ্বোধন করবেন। এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান হবে। এরপর উপকারভোগীদের মাঝে নির্মিত বাড়িগুলো হস্তান্তর করাহবে।

প্রতিটি ঘর নির্মাণে খরচ হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর ও একটি বাথরুম সামনে একটি করিডোর রাখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারী) বেলা ১২ টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ এটি এম জাফর আলম কনফারেন্স হলে এক প্রেস ব্রিফিং এ জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশিদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মুজিব বর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন না থাকে সে লক্ষে জেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ৮৬৫ টি উপকারভোগীদেরকে জমিসহ বাড়ি উপহার দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আগামী শনিবার প্রথম পর্যায়ে ৩০৩ টি ঘর হস্তান্তর করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ শতাংশ জমি ও ১৪ কোটি ৭৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে ভূমিহীন-ঘরহীন ‘১২ হাজার ১২৮ জনের মধ্যে ৮৬৫জন মানুষকে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে ‘স্বপ্ননীড়’ ঘর তৈরি করে দিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে ৩০৩টি ঘর উপকারভোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এ ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।

কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১ম ও ২য় ধাপে মোট ৯৬টি ঘরের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে নির্মিত হয়েছে ২০টি। অবশিষ্ট ঘর নির্মাণের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে। চকরিয়া উপজেলায় ১৮০টি বরাদ্দের বিপরীতে ৮০টি ঘরের নির্মাণ কাজ, পেকুয়া উপজেলায় ৪৫টি বরাদ্দের বিপরীতে ১৪টি ঘরের নির্মাণ কাজ, রামু উপজেলায় ১৭৫টি বরাদ্দের বিপরীতে ৬০টি গরের নির্মাণ কাজ, মহেশখালী উপজেলায় ২০টি বরাদ্দের বিপরীতে ২০টি ঘরের নির্মান কাজ, উখিয়া উপজেলায় ১০০টি বরাদ্দের বিপরীতে ৩৫টি ঘরের নির্মাণ কাজ, টেকনাফ উপজেলায় ২২৯টি বরাদ্দের বিপরীতে ৬০টি ঘরের নির্মাণ কাজ এবং কুতুবদিয়া উপজেলায় ২০টি বরাদ্দের বিপরীতে ১৪টি ঘরের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেছ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তী রায়, সাবেক সাংসদ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন, কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী ও মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান শরীফ বাদশা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহমদ, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ঋত্বিক চৌধুরী, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো. মোস্তফা জাবেদ কায়সার ও ডি, আর,আর,ও মো. জাহাঙ্গীর আলম।

উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রæত প্রতিটি ঘরহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় ঘরহীন পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার কার্যক্রম চললেও এটি হচ্ছে পৃথক কর্মসূচি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ পালন উপলক্ষে সরকারের একটি বড় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশের ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি ঘরহীন পরিবারকে আধাপাকা টিন-শেড ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে নেওয়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। আগামী ১৭ মার্চের মধ্যেই এসব ঘরহীন মানুষকে নিজের ঘরে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।