কত ধানে কত চাল এইবার টের পাবেন: দুদু

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৪৫:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮

আমরা আরও একটি ১/১১ এর গন্ধ পাচ্ছি’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘১/১১ কেন? একমাস পরে যে আপনারা আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন, বেগম খালেদা জিয়া আবার ক্ষমতায় আসবেন- এই গন্ধ পাচ্ছেন না?’

শুক্রবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচন: সংকট উত্তরনের এক মাত্র উপায়’ শীর্ষক প্রতিবাদী আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের আলোচনায় এসব কথা বলেন দুদু।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমি গতকাল রাত থেকে একটু উদ্বিগ্ন-হতাশ এবং আতঙ্কগ্রস্ত। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে আসছি, চিন্তাভাবনা আছে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজনীতি করে যাব কিন্তু গতকাল গণমাধ্যমে নিউজ দেখে আমি একটু হতাশাগ্রস্ত।

শেখ হাসিনা একটি অভিনব প্রধানমন্ত্রী, ১৫৪টি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নিয়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দাবিদার শেখ হাসিনা গতকাল বলেছেন- পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সাথে শুধু জিয়া জড়িত না তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও জড়িত।

একসময় কোর্ট যখন তাকে (শেখ হাসিন) রং হেডেট বলেছিল আমি সেসময় মেনে নিতে পারি নাই। যেমন কোট এখন খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে, জামিন দিচ্ছেন না, এটাও আমার কাছে ঠিক মনে হচ্ছে না।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রীর নিউজ যখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে, তখন আমার কাছে মনে হয়েছে একটি সুস্থ মানুষের নেতৃত্বে বাংলাদেশ চলছে কিনা? আমি সন্দেহের মধ্যে আছি- কারণ, ৭৫’র হত্যাকাণ্ড যখন সংঘটিত হয় তখন বেগম খালেদা জিয়া নিতান্তই একজন গৃহবধূ।

তখন তো বিএনপিও তৈরি হয় নাই, তাকে তার পরিবার ছাড়া আর বেশি মানুষ চিনতে পারতো বলেও আমার মনে হয় না। কোন কারণে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সাথে নিজেকে জড়িত করবেন? প্রধানমন্ত্রী যদি ব্যাখ্যা করেন তাহলে আমার এই অস্থিরতা একটু হলেও কমবে।

‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাড়ি চাই না, গাড়ি চাই না, মন্ত্রিত্বও চাইনা। কোন কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী ৭৫’র হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বলেছেন? আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার ব্যাখ্যার দাবি জানাবো। যদি ব্যাখ্যা করেন তাহলে আমি বাধিত হব, যদি ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হন তাহলে এই অপপ্রচারের জন্য দয়া করে পদত্যাগ করুন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে দুদু আরও বলেন, ‘ছেলেমানুষের একটা সীমা থাকা দরকার, আপনি সেই সীমা অতিক্রম করেছেন, একেবারেই অতিক্রম করে ফেলেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে আপনি বলেন বধু কাকা।

আপনি তার বন্ধু কিনা সেটা আমার জানা নেই, তার সাথে একই ক্লাসে একই ভার্সিটিতে কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক আছে কিনা তা আমার জানা নেই, যদি থাকে তাহলে আলাদা কথা। কিন্তু বি.চৌধুরী বলেছেন- প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই ধরনের হালকা কথা তিনি পছন্দ করেন না, তিনি এর ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর হাস্যকর কথা বলার একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। তাদের যে সাধারণ সম্পাদক আছেন এটাও একটি হাস্যকর। তিনি গতকাল বলেছেন- আমরা আবারো একটি ১/১১ এর গন্ধ পাচ্ছি, এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন- ১/১১ তাঁর আন্দোলনের ফসল। এ

খানে কোনটা সত্য তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই। আপনারা এতো কিছুর গন্ধ পাচ্ছেন কিন্তু গন্ধ পাচ্ছেন না যে একমাস পরে আপনারা আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। বেগম খালেদা জিয়া আবার ক্ষমতায় আসবেন সেই গন্ধ পাচ্ছেন না?’

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ বলেন, ‘সেপ্টেম্বর আসছে, সামনে পহেলা সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার দিন। বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়েছে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য, সেপ্টেম্বর মাস গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার মাস। বিএনপি নির্বাচনে যাবে কত ধানে কত চাল এইবার টের পাবেন। আপনাদের এমন কোন শক্তি নাই বেগম জিয়াকে আটকে রাখবেন। তিনি মুক্তি পাবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা জীবনকে বাজি রেখে তার মুক্তি আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই আমরা নির্বাচনে যাবো।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম. জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় প্রতিবাদী আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, সাবিরা নাজমুল প্রমুখ বক্তব্য দেন।