কথা বলার সমস্যা নিয়েও ব্রিটেনে সেরা স্কুলশিক্ষক বাংলাদেশী আবিদ

প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৯ | আপডেট: ৯:২১:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৯
ছবি: সংগৃহীত

টিশ বাংলাদেশী আবিদ আহমেদ ব্রিটেনের ন্যাশনাল এডুকেশন ইউনিয়নের নতুন শিক্ষক ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা শিক্ষকের খেতাব অর্জন করেছেন।

যুক্তরাজ্যের টিইএস টাইমস এডুকেশন সাপ্লিমেন্ট অ্যাওয়ার্ডেও ভূষিত হন তিনি। এর আগে ব্রিটেনের দেশসেরা শিক্ষকদের তালিকায় তার নাম এসেছিল।

কথা বলায় তোতলামোর কারনে স্কুল-কলেজে আবিদকে নানা বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে। সহপাঠীদের হাসি-ঠাট্টার কারনে ক্লাসে নিয়মিত পড়া বলতে পারতেন না। অথচ আজ শতশত শিক্ষার্থী ক্লাসে কান পেতে অপেক্ষায় থাকে আবিদের লেকচার শুনতে।

এর আগেও দেশসেরা শিক্ষকদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় (টিইএস-টাইমস এডুকেশন সাপ্লিমেন্ট অ্যাওয়ার্ড) নাম এসেছিল আবিদের। তবে এ পথটুকু সহজ ছিল না তার জন্য। বহু বাধা-বিপত্তির দেয়াল তাকে পেরুতে হয়েছে।

আবিদ জানান, তার ছেলেবেলার স্বপ্ন ছিল একজন শিক্ষক হবেন।

নিউম্যান ইউনিভার্সিটি থেকে ক্রীড়ায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটিতে টিচার্স ট্রেনিংয়ে ভর্তির সুযোগ পান আবিদ। মাত্র এক বছর পর তিনি বার্মিংহামের বাংলাদেশি অধ্যুষিত লজেলস এলাকার হলটি স্কুলে গণিতে শিক্ষকতার সুযোগ পান। এক সময় নিজেও এ স্কুলের ছাত্র ছিলেন।

গণিতে শিক্ষকতার পাশাপাশি আবিদ স্কুলের তোতলা বা কথা বলতে সমস্যা হয় এমন শিক্ষার্থীদের জন্য সাপোর্ট গ্রুপ চালু করেন। গত বছর আবিদ শুরু করেন বিবিসি থ্রি ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘অ্যামাজিং হিউম্যান’। এতে উঠে আসে আবিদ কিভাবে, কথা মুখে আটকে যায় এমন শিশুদের জন্য গণিতের ক্লাস পরিচালনা করেন। কিভাবে তার ক্লাসগুলো উদ্দীপ্ত করে তোতলা শিক্ষার্থীদের। বিশ্ব তোতলা দিবস বা ইন্টারন্যাশন্যাল স্টামার অ্যাওয়্যারনেস ডে-র জন্য তার তৈরি ভিডিও প্রশংসিত হয়।

আবিদ বলছেন, তিনি প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে পেরে তার কাঙ্ক্ষিত পেশায় আসতে পেরেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন শারীরিক অক্ষমতা কোনো বাধা নয়। তিনি স্টামারদের নন, সব কর্ম সক্ষম মানুষদের প্রেরণা হতে চান।