‘কথিত’ নাফিসা কামালের হাত থেকে রক্ষা পায়নি কেউ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ | আপডেট: ৪:১৮:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮

পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামালের মেয়ে ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের চেয়ারম্যান নাফিসা কামালের কন্ঠ হুবহু নকল করে প্রতারণার অভিযোগে আটক শাহিন ইসলামের খপ্পরে পড়েছেন ভিআইপি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও কলেজ প্রিন্সিপালসহ সাধারণ মানুষ। তার প্রতারণা বুঝতেই পারেনি প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা।

প্রতারণা ঢাকতে সে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দাঁড়িয়ে বা বসে সেলফি তুলে ব্যক্তিগত ফেসবুকে পোস্ট করে। মূলত নাফিসা কামালের পিএস পরিচয়ে তদবির ও আবদারে ব্যস্ত রাখতো বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের। কেউ তার তদবিরে কাজ করতে অস্বীকার করলেই বান্দরবান বদলির হুমকি দিতো অনায়াসেই। আর প্রবাসী ও রাজনীতিবীদদের থেকে মসজিদ নির্মাণের কথা বলেই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে-বিগত কয়েক বছরে নাফিসা কামালের পিএস এবং সরকার দলীয় রাজনীতির পরিচয়ে শূন্য থেকেই কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন প্রতারক শাহিন। তার আটকের পর রাজনীতিবিদরাও হতভম্ব হয়ে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের তারাশাইল গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক এনামুল হকের পুত্র শাহিন ইসলাম (২৮)। তার মা ভিক্ষা করতো। দরিদ্রতার কারণে সে কয়েক বছর আগে স্বপ্নে পেয়েছে বলে ‘তাবিজ’ বিক্রি করে। এ ব্যবসা ভালো না হওয়ায় সে ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন নাট্যকারের স্মরণাপন্ন হয়ে কিছুদিন নাটকের অভিনয় শিখে। সেখানে বিভিন্ন কৌশল শিখেই নেমে পড়ে প্রতারণার কাজে। এক্ষেত্রে কুমিল্লার লাইমাইয়ের কৃতি সন্তান পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামালের মেয়ে নাফিসা কামালের কণ্ঠ নকল করা শুরু করে।

তার প্রতারণা শিকার হওয়া অসংখ্যজনের অন্যতম হলেন দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রংপুরের আমিনুর রহমান। প্রতারক শাহিন আটকের খবর পেয়েই গত বুধবার বিকেলে তিনি ঢাকা থেকে ছুটে আসেন চৌদ্দগ্রামে। আমিনুর রহমান অভিযোগ জানান, ফেসবুকে নাফিসা কামাল হিসেবে পরিচয় পেয়েই তার সাথে অ্যাড হন। ২-৩ দিন পর ম্যাসেঞ্জারে ফোন দিয়ে সম্পূর্ণ নাফিসা কামালের পরিচয়ে কথা হয় তার সাথে। ২-৩ দিন পর চৌদ্দগ্রামে একটি মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা চেয়ে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে কল দিয়ে আমিনুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা প্রদানের জন্য বলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতারক শাহিনের দেওয়া বিকাশ (০১৮৪৭১৪৩৮৬৯) এজেন্ট নাম্বারে কয়েক দফায় ৫০ হাজার টাকা পাঠানো হয়।

কয়েকদিন পরে তাকে আবারো ৫০ হাজার দেয় আমিনুর রহমান।
এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে অল্প সময়ে কোটি টাকার মালিক বনে গেছে শাহিন। সম্প্রতি সে পৌর এলাকায় ৩ কাঠা, কনকাপৈতের জঙ্গলপুরে ১ বিঘাসহ আরও বিভিন্ন সম্পদের মালিক হয়েছে। ভূমিহীন হিসেবে সরকারি খাস জায়গাও বন্দোবস্ত নেয় শাহিন। মাঝে মধ্যে সে একটি ভিআইপি গাড়িও ব্যবহার করতো। এছাড়াও থানার বিভিন্ন অফিসার ও বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ লোকদের সাথে ছবি তুলেই ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে জানান দিতেন তার অবস্থান।

ভুক্তভোগী আরও কয়েকজন জানান, কথা বলার সময় নাফিসা কামালের কন্ঠ এমনভাবে নকল করা হয়েছে, যা বুঝার কোন উপায় নেই। এমনকি ইউটিউবে নাফিসা কামালের কন্ঠের সাথেও সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায় তার কন্ঠের। এছাড়া নাফিসা কামালের নাম দিয়ে ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে প্রতিদিনই পোষ্ট করা হয় নাফিসা কামাল ও তার পরিবারের ছবি। এতে করে ভুক্তভোগীরা বিভ্রান্ত হয়ে সহজেই তাঁর খপ্পরে পড়ে যায়। গত ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে র‌্যাবের একটি টিম শাহিনকে গ্রেফতারের পর তার অপকর্ম প্রকাশ পায়।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত শুভরঞ্জন চাকমা জানান, তার বিরুদ্ধে ৪১৯ ধারায় একটি মামলা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন তার প্রতারণার কৌশল স্বীকার করেছে বলেও তিনি জানান।