কপোতাক্ষের ভয়াবহ ভাঙ্গনের মুখে কপিলমুনির বিস্তীর্ণ এলাকা

প্রকাশিত: ৮:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | আপডেট: ৮:৫১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

শেখ দীন মাহমুদ,পাইকগাছা(খুলনা): ফের ভয়াবহ ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে কপোতাক্ষ নদের খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির বিস্তীর্ণ এলাকা।

ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে সেখানকার বহু ঘর-বাড়ী, গাছ-গাছালি, ফসলের ক্ষেত,মসজিদ,কবরস্থান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। সর্বশেষ মালথ গ্রামের আরজ আলী মোড়লের বাড়ি থেকে শুরু করে এর আগে ভাঙ্গনের মুখে পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়কের সরিয়ে নেয়া অংশের পদ্মাকান্দার তীর ঘেঁষে সিলেমানপুর পালপাড়া অভিমুখী রাস্তা পর্যন্ত ভয়াবহ ভাঙ্গনের মুখে চরম হুমকিতে রয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে রীতিমত নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে ঐ এলাকার বাসিন্দারা। আশংকা করা হচ্ছে, দ্রæত ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা না নিলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হতে পারে।
সরেজমিনে প্রতিবেদনকালে এলাকাবাসী জানায়, কপোতাক্ষের অব্যাহত নাব্যতা সংকটে গভীরতা কমে যাওয়া, ভারী বর্ষণ ও কোটালের প্রভাবে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়নের মালথ’র আরজ মোড়লের বাড়ি হতে পদ্মাকান্দা সাবেক পিচের রাস্তার তীর ঘেঁষে সিলেমানপুর পাল পাড়া অভিমূখী রাস্তা পর্যন্ত কপোতাক্ষ নদের প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

এর আগে ভাঙ্গনের মুখে উপজেলার কপিলমুনি-হরিঢালী ইউনিয়নের দরগামহল, মালত, রামনাথপুর, সিলেমানপুর, আগড়ঘাটা বাজার ও হাবিবনগর, নোয়াকাটি, সোনাতনকাটি, মাহমুদকাটি এলাকার বসত-বাড়ি, ধর্মীয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, গাছ-গাছালিসহ বিস্তীর্ণএলাকার বহু কৃষি জমি নদী গর্ভে বিলীণ হয়েছে। ভয়াবহ ভাঙ্গনের মুখে সরিয়ে নেয়া হয়েছে পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়কটিও।

ভয়াবহ ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছে রাস্তার পাশে,আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে, আবার অনেকে চলেগেছেন ভিন্ন এলাকায়।

মালথ ও সিলেমানপুরের মোকাম মোড়ল, গনি, পাগল, জব্বার মোড়ল, সৈয়দ মোল্যা, আঃ জব্বাররা জানান, অনেক আগে থেকেই ভাঙ্গন সৃষ্টি হলেও এতোটা ভয়াবহতা ছিল না। অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু আহরণ ও সম্প্রতি ভারী বর্ষণের ফলে ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কেয়ারের রাস্তা অনেক আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সম্প্রতি ভয়াবহ ভাঙ্গনে অসংখ্য ঘর-বাড়ি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে।

স্থানীয় দুলাল, গনেশরা জানান, তাদের ৩০/৪০ টি পরিবারের বাড়ি-ঘর নদীতে চলে গেছে। ভাঙ্গনের মুখে এরআগে বন্যা নিয়ন্ত্রণ কেয়ারের বাঁধটিও গিলে খেয়েছে আগ্রাসী কপোতাক্ষ। তবে এখনো যারা ভিটা-বাড়ি আঁকড়ে পড়ে রয়েছেন তারাও অনাকাংখিত আশংকায় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে প্রতিটি রাত কাটছে নির্ঘুম। তাদের দাবি, আমরা সাহায্য চাই না। ভাঙ্গন প্রতিরোধপূর্বক বসবাসের নিশ্চয়তা চাই।

ভয়াবহ ভাঙ্গনের খবরে শনিবার দুপুরে কপিলমুনির মালথ ও সিলেমানপুরের নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। এসময় কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওসার আলী জোয়াদ্দারসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় ইউএনও ভাঙ্গন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের অবহিত-নির্দেশনাসহ ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের আশ্বাস, অন্তত ১ হাজার বালি ভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা, এছাড়া টেঁকসই ভেঁড়িবাধ নির্মানেরও আশ্বাস দেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এজাহার আলী গাজী জানান, স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বাঁশের পাইলিং করে ভাঙ্গন রোধ করার চেষ্টা করেছিলেন তারা। তবে ভয়াবহ ভাঙ্গনের মুখে কোন পাইলিং কাজে আসেনি।

ইউপি চেয়ারম্যান কওসার আলী জোয়াদ্দার বলেন, ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের পুর্নবাসনের পাশাপাশি জরুরী ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও যথাযথ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম সিদ্দিকী জানান, ইতোমধ্যে ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। অধিক ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ৬শ’ মিটার এলাকায় ১হাজার বালি ভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ভূক্তভোগী বাসিন্দারা সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু, পাউবোসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।