‘কমিশন দাবি করলেই তো নির্বাচন সুষ্ঠু বলা যায় না’

প্রকাশিত: ৩:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯ | আপডেট: ৩:২৪:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯
সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। ফাইল ছবি

ইসি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করলেই যে সেটা সুষ্ঠু হয়ে যাবে এমন কোনো কথা নেই। জনতার চোখ বলে একটা কথা আছে। আমাদের ও আপনাদের সবার কর্মকাণ্ডের পরীক্ষা হবে জনতার চোখে, বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

তিনি বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করার বিষয়ে আমি সবসময় গুরুত্বারোপ করেছি। কিন্তু এই গ্রহণযোগ্যতা অবশ্যই দৃশ্যমান হতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচন ও ঢাকার দুই সিটির নবগঠিত ৩৬টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং ও সহকারি রিটার্নিং অফিসারদের নিয়ে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাহবুব তালুকদার বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আমি কিছুটা পড়াশোনা করার চেষ্টা করেছি। এর অভিজ্ঞতা কিঞ্চিৎ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারি। আমি এখন পর্যন্ত যেসব কাগজপত্র দেখেছি তাতে রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে পর্যবেক্ষক পর্যন্ত সবার প্রতিবেদনে দু’টি শব্দ অতিমাত্রায় ব্যবহৃত হয়েছে। একটি শব্দ হচ্ছে ‘সন্তোষজনক’ এবং অন্য শব্দটি হচ্ছে ‘স্বাভাবিক’। তার মানে কি নির্বাচন খুবই সন্তোষজনক হয়েছে? এক্ষেত্রে পাবলিক পারসেপশন কি তা নিজেদের কাছেই জিজ্ঞেস করতে হবে।

নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে আমার দুই বছরের অভিজ্ঞতা বলে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিশেষত, নিজস্ব পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে সাধারণত কোনো নেতিবাচক বিষয় লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে আমরা দ্বিধান্বিত। সবাই যেন কাগজেপত্রে গা বাঁচিয়ে চলতে চান। যদি কেউ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আমার কথার বিরোধিতা করতে পারেন তাহলে খুশি হবো।

আসন্ন সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহবুব তালুকদার বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাকে আমি নাতিশীতোষ্ণ নির্বাচন বলবো। কারণ এই নির্বাচনে মেয়র পদে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা ছিল তা মনে হয় হবে না। কেবল কাউন্সিলর পদের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কিছুটা উষ্ণতা আশা করা যায়।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ঢাকা সিটি করপোরেশনে আমরা কী ধরনের নির্বাচন উপহার দিই- সেটা দেখার জন্য এই নির্বাচনের দিকে দেশের মানুষ, এমনকি উন্নয়ন সহযোগীরা তাকিয়ে আছেন। নির্বাচনকালে আমরা কোনো চাপ, ভয়ভীতি বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করবো না।

নিজের ভারত সফরের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, কয়েকদিন আগে আমি ভারতে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি পত্রিকায় নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা নিয়ে লেখা একটি আর্টিকেল পড়েছি তখন। তাতে দুয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা ছিল। এতে দেখা যায়, নির্বাচনি দায়িত্বে পালন করা কর্মকর্তারা নির্বাচন সুষ্ঠু করার বিষয়ে অনড় ছিলেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনিয়ম দেখে তারা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে পিছপা হননি।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।