করোনাকালীন সংকট ও পরবর্তী উচ্চশিক্ষা ভাবনা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:১৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২০ | আপডেট: ২:১৯:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২০

অরুপ বড়ুয়া,স্পেনঃ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে অনেকের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনেক প্রশ্ন পাচ্ছি। প্রশ্নগুলো হলো এমন: অনেকেই উচ্চ শিক্ষার জন্য বিভিন্ন দেশে পড়তে যেতে চাচ্ছেন, অনেকেই মাঝপথে আছেন এবং কেউ কেউ স্কলারশিপ পেয়েছেন, কারো কারো বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সেশনে ভর্তি কিংবা পরের সেশন ধরার পরিকল্পনা ছিল। নিচের কিছু কথা তাদের, তাদের পরিবার ও শুভাকাংখীর জন্য:

১। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শেষ সেমিস্টারে আছি, আমরা (আমার ক্ষেত্রেও সুযোগটা শেষ) হয়তোবা চাইলেও আর শ্রেণীকক্ষে ফিরে যেতে পারছিনা। উন্নত বিশ্বের মোটামুটি সবদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলমান সেমিস্টার অনলাইনে শিক্ষাদানের এর মাধ্যমেই প্রোগ্রামগুলো শেষ করবে কিংবা করতে হবে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিয়মিত গ্রেডিং পদ্ধতি তুলে নিয়েছে বা নিতে বাধ্য হচ্ছে। কোর্সগুলো বাইনারি পদ্ধতিতে মুলত পাস অথবা ফেইল দিয়েই শেষ করবে। অনেক ক্ষেত্রে গবেষণার চুড়ান্ত থিসিস অথবা ডিসারটেশান জমাদানের সময়সীমা একটু পিছিয়েও যেতে পারে।

২। যারা ২০২০-২০২১ সেশনে শুরু করবেন তাদের অনেককেই হয়তোবা প্রথম সেমিস্টারের ক্লাসগুলো অনলাইনে করা লাগতে পারে। এই সিদ্ধান্ত ভার্সিটিগুলো এখনো পুরোপুরি নিতে পারেনি। হয়তোবা আরো কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ পরিস্থিতি কবে অনুকূলে আসবে এবংকবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হবে বিষয়টি এখনো দুর্বোধ্য। পাশাপাশি সবার ভিসা প্রসেসিং এর বিষয় আছে। আপাতত সব দূতাবাস বন্ধ রয়েছে। এখানেও অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হওয়াটা স্বাভাবিক।

৩। অনেকে হয়তো ২০২০-২০২১ সেশনে আংশিক বৃত্তি কিংবা নিজের খরচে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাদের সবাইকে আমি অনুরোধ করবো আপনাদের পরিকল্পনা সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত রাখুন আপনি যতই বিত্তবান হন না কেন। সামনের কয়েক মাস অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং পরিস্থিতির অনেক বেশি পরিবর্তন হতে পারে। আমার কথা যুক্তিসঙ্গত মনে না হলে আপনি অস্ট্রেলিয়া, জাপান, আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলোতে যারা বাংলাদেশী শিক্ষার্থী আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনবোধে আরেকটু তথ্য নিয়ে নিজেরাই বিচার বিশ্লেষণ করুন। অনেকে হয়তো খন্ডকালীন চাকরির চিন্তা করেছিলেন। সেরকম কোন সুযোগ আপাতত আশা না করাটাই শ্রেয়। বৈশ্বিক মন্দার কারণে সবগুলো দেশের চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিনে দিনে স্পষ্ট হচ্ছে।

৪। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন যারা বৃত্তি পেয়েছেন তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনাদের এক্ষেত্রে একটু কৌশলী হতে হবে। আপনারা এদিক সেদিক জিজ্ঞাসা না করে সরাসরি আপনাদের নিজ নিজ বৃত্তি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় বা তহবিল সমন্বয়কদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলুন এবং তাদের নির্দেশনা মেনে চলুন। তুলনামূলকভাবে আপনাদের ঝুঁকি অন্য ছাত্রদের থেকে অনেক কম বরং আপনাদের স্কলারশপের ধরণ অনুযায়ী আপনারা ভাল সুবিধা পাবেন যেমন হেলথ ইন্সুরেন্স হতে পারে একটা বড় ফ্যাক্টর।

৫। যারা ২০২১-২০২২ অথবা ২০২২-২০২৩ সেশনের স্কলারশিপ এর জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদেরকে অনুসন্ধানের পরিধি অনেক বাড়াতে হবে। উপরিউক্ত সেশনগুলোতে বিভিন্ন স্কলারশিপ প্যাকেজের বৃত্তি বরাদ্দের সংখ্যা একটু কমতেও পারে। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ফিল্ডে বৃত্তি সংখ্যা বেড়ে যাবে। যেমন জনস্বাস্থ্য, মেডিক্যাল রিসার্চ , বায়োমেডিক্যাল প্রকৌশল, জীন প্রকৌশল, রবোটিক্স, বায়ো-ইনফরমেটিক্স, নার্সিং, এপ্লাইড ফিজিক্স, ক্রাইসিস রেস্পন্স, হিউমেনিটারিয়ান এইড এই ধরনের বিষয় গুলোতে ফান্ডিং যে অনেক বাড়বে সেক্ষেত্রে সন্দেহ নেই। আবেদনের সময় আপনাদের নিজ নিজ প্রোফাইল সেভাবে প্রস্তুত করে নিতে হবে।

লেখক ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বৃত্তিপ্রাপ্ত একজন ইরাসমাস স্কলার। বর্তমানে তিনি স্পেনে অধ্যয়নরত।