করোনাক্রান্ত রোগীর সেবা করেও সুস্থ থাকবেন যেভাবে

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৯:১০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

করোনাভাইরাস আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে যন্ত্রণাদায়ক করে তুলেছে। সংক্রমণের ভয়ে প্রত্যেকেই সবসময় স্ট্রেসের মধ্যে থাকছেন। গবেষকরাও এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি নিয়ে যত তথ্য-উপাত্ত জানাচ্ছেন- তাতে ভীতি আরও বাড়ছে।

কোভিড-১৯ বিভিন্ন স্থানে কতক্ষণ সক্রিয় থাকে, সেটা সংক্রমণের হারেও প্রভাব ফেলে। সংক্রমণ নিয়ে নতুন নতুন তথ্য পাওয়া গেলেও ভাইরাসটি ছড়ানোর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া হলো- সংক্রমিত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অন্যদের শরীরে করোনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আপনি হয়তো বাইরে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছেন। সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার এবং স্বাস্থবিধি মেনে সংক্রমণমুক্ত রয়েছেন। তবে সংক্রমিত ব্যক্তি যদি আপনারই পরিবারের সদস্য হয়! এবং তার সেবা-যত্নের দায়িত্বও আপনার কাঁধে পড়ে; তাহলে কীভাবে সুরক্ষিত থেকে আপনি দায়িত্ব পালন করবেন?

ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে তাদের প্রতিবেদনে দিক-নির্দেশনা তুলে ধরেছেন। চলুন জেনে নিই নিজেকে সুরক্ষিত রেখে যেভাবে সংক্রমিত ব্যক্তির সেবা করবেন।

স্থান ভাগ করে নেয়া

আপনার বাড়ির কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হয় তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এই কঠিন পরীক্ষার সময়, আপনাকে কেবল অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন নিলেই হবে না বরং নিজেকে নিরাপদে রাখতেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সংক্রামিত ব্যক্তিকে আলাদা ঘরে রাখুন। এটি ভাইরাসের বিস্তার সীমাবদ্ধ করবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে- আক্রান্ত ব্যক্তিকে ভাল বায়ুচলাচল করে এমন ঘরে রাখা উচিত।

দূরত্ব বজায় রাখুন এবং জিনিসপত্র আলাদা করুন

করোনার সংক্রমণ নিশ্চিত হলেই প্রথম পদক্ষেপটি যতটা সম্ভব শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। যা একই বাসায় কঠিন হতে পারে। শুধুমাত্র শারীরিক দুরত্ব নয় বরং করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তি যে জিনিসগুলি স্পর্শ করছে সেগুলি থেকেও দূরে থাকতে হবে। আপনার শয়নকক্ষ, ওয়াশরুম এবং অন্যান্য গৃহস্থালী জিনিসপত্র আলাদা ব্যবহার করুন।

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন

করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তির থেকে দুরুত্ব বজায় রাখলেই কেবল সুরক্ষিত থাকা সম্ভব নয়। দুরুত্ব বজায় রাখার সাথে সাথে কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি। কেননা একটু অসেচতনতা আপনার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং এই মুহুর্তে আপনার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি হালকাভাবে নেবেন না।কোন কিছু স্পর্শের পরে আপনার হাতটি সঠিকভাবে ধুয়ে নিন এবং আপনার চারপাশ পরিষ্কার রাখুন। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে ওষুধ বা খাবার দিতে গেলে আপনার সুরক্ষার জন্য সর্বদা মাস্ক এবং গ্লাভস পরুন।

চারপাশ পরিষ্কার রাখুন

পরিচ্ছন্নতা আপনি এই সময়ে উপেক্ষা করতে পারবেন না। আপনার চারপাশটা যতটা সম্ভব জীবাণুমুক্ত করে রাখুন। ঘর পরিষ্কার রাখুন এবং জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন। আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল বা ব্লিচ সলিউশন স্যানিটাইজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। ওয়াশরুমের দরজা, ফোন, রিমোট এই জিনিসগুলো সবাই স্পর্শ করে। তাই এই সমস্ত স্থানগুলো স্যানিটাইজ এবং জীবাণুমুক্ত করা জরুরি। দিনে কয়েকবার জীবাণুমুক্ত করলে ভাল হয়। যদি সম্ভব না হয় তবে দিনে কমপক্ষে দুইবার স্যানিটাইজ করুন।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং হাইড্রেড থাকুন

আমরা যখন কোন রোগির যত্ন নিই, তখন সাধারণত রোগির দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগী এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করি। কিন্তু করোনা রোগিকে সেবার সময় নিজের সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী ভুলে যাওয়া চলবে না। নিজে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে এবং হাইড্রেড থাকতে হবে। আপনার খাদ্যভাসে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার যুক্ত করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

আপনি যখন এ রকম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন তখন স্ট্রেস অনুভূত হওয়া খুব স্বাভাবিক। যখনই আপনার মনে হবে অতিরিক্ত চাপ হয়ে যাচ্ছে, তখনই আপনি চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। এটি আপনার শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরি।

সূত্র: বার্তা ২৪।