করোনামুক্ত মানেই কি পূর্ণ সুস্থতা- কী বলছে গবেষণা

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০ | আপডেট: ৯:২৪:অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে আরো আগে। প্রতিনিয়ত সে সংখ্যা বাড়ছেই। পাশাপাশি আক্রান্তদের একটা বড় অংশ সুস্থ হয়ে উঠছে। কিন্তু তারা কি প্রকৃত অর্থেই সুস্থ হচ্ছেন, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা।

অনেকে মনে করেন, সুস্থ হলেও তাদের একটা স্থায়ী ক্ষতি থেকে যায়। সে রকমই একজন হলেন ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের অধ্যাপক ডক্টর হেলেন সালিসবুরি। তার মতে, করোনাভাইরাসে আক্রান্তরা হয়তো কখনই পুরোপুরি সেরে উঠতে পারবে না। ব্রিটিশ মেডিকেল সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেন তিনি।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে রোগীদের দেহে অন্যান্য অনেক রোগের উদ্ভব হয়। সেসব রোগের প্রভাব রোগীর শরীরে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

হেলেন সালিসবুরি বলেন, আপনি আগের সপ্তাহে তিন দিন ৫ কিলোমটার দৌড়াতে সক্ষম ছিলেন। আক্রান্ত হওয়ার পর শারীরিক অবস্থা এমন হয়েছে যে, একটি সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই আপনি হাঁপিয়ে যাচ্ছেন।

আল-আরাবিয়ার বরাতে জানা যায়, প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই চিকিৎসক ও গবেষকরা ধারণা করে আসছেন, মরণঘাতী এই ভাইরাসের কারণে ফুসফুস ও শ্বাসনালীতে সংক্রমণ হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তারা বুঝতে পারছেন যে, এই ভাইরাস থেকে আরো মারাত্মক রোগের উদ্ভব হয় দেহে।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য স্ক্রিপ্স রিসার্চ ট্রান্সলেশোনাল ইনিস্টিটিউটের পরিচালক ও কার্ডিওলোজিস্ট বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, এটি শুধু ফুসফুস ও শ্বাসনালীতে সংক্রামক সৃষ্টিকারী একটি ভাইরাস। অথচ এটি লিভার, মস্তিষ্ক, কিডনি এবং অন্যান্য অঙ্গেও সংক্রমণ ঘটায়। বিভিন্ন রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আমরা তা উপলব্ধি করতে পেরেছি।

করোনাভাইরাসের কারণে মানবদেহে রক্ত জমাট বাঁধার পাশাপাশি স্ট্রোক, বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে তীব্র প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এসব কারণের বিশ্বব্যাপী অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অনেকে হারিয়েছেন স্বাদ ও ঘ্রাণশক্তি।

এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। এসব রোগ থেকে মুক্তির চিকিৎসা পদ্ধতিও বেশ ব্যয়বহুল। যার কারণে ভাইরাস থেকে মুক্তি পেলেও এর কারণে সৃষ্ট রোগের সঙ্গে মানুষের লম্বা সময় লড়াই করে যেতে হবে। অনেকে আবার স্বাভাবিক জীবনে নাও ফিরে যেতে পারেন।

-২৪ লাইভ নিউজ।