করোনার উপসর্গ নিয়ে গাজীপুরে যুবকের মৃত্যু

বাবা মা,ভাই বোনসহ পরিবারের নমুনা সংগ্রহ

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০ | আপডেট: ৫:২৩:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ঠান্ডা সর্দি জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে এক যুবকের মৃত্যুবরণ করেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে তিনি কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের উলুসারা গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান। সে নারায়ণগঞ্জে একটি কারখানায় কাজ করতেন। তার বাবা মা, ভাই বোনসহ পরিবারের সকলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এলাকাবাসির দাবী করোনার বিস্তার শুধু যুবকের বাড়ী নয়, আশপাশের এলাকা লক ডাউন করা হোক।

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সালাম সরকার জানান, নিহত যুবক নারায়ণগঞ্জে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতো। জ্বর সর্দি কাশি ইত্যাদি উপসর্গ নিয়ে দুই সপ্তাহ আগে সে বাড়িতে আসে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার শ্বাসকষ্ট ছিল না। যদি শ্বাসকষ্ট থাকত তাহলে সে তো হাসপাতালেই আসতো। যেহেতু তার বয়স কম, তাই আমরা মনে করছি তার করোনা হয়ে থাকতে পারে। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে লোক পাঠানো হয়েছে মৃত যুবক ও তার বাবা মা, ভাই বোনসহ পরিবারের সকলের নমুনা সংগ্রহ করার জন্য। তার পরিবার সকলে হোম কোয়ারান্টিনে থাকবে, অনেকটা লকডাউন এর মত।

তিনি আরো জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ওই যুবকের দাফন করোনা আক্রান্ত রোগীর মতোই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী করা হবে। এজন্য স্বেচ্ছাসেবীদেরকে পিপিই ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। করোনার উপসর্গ নিয়ে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর আমি কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে উপজেলা কমিটির সাথে আলাপ করে ওই বাড়িটি লক ডাউনের নির্দেশ দিয়েছি। কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসমত আরা জানান, নিহত যুবক ও তার পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

পরীক্ষার ফলাফল এলে বলা যাবে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কী-না। আপাতত ওই বাড়িতে লাল পতাকা দেয়া হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের রহাম কোয়রেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আমানত হোসেন খান বলেন, ছেলেটি কাপাসিয়া আসার আগেই অসুস্থ ছিলো। বাইরে থেকে এলাকায় এসে অনাকাংখিত ঝুকি তৈরী করেছে। একারণে তিনি এলাকায় নতুন করে কাউকে না আসার অনুরোধ করেন। যদি কেউ আসেও তাহলে যেন সরকারি নির্দেশ মেনে সেলফ কোয়ারেন্টিন মেনে চলেন।