করোনার মধ্যেও দশমিনায় মাদরাসার জায়গায় প্রাথমিকের ভবন নির্মাণ

প্রকাশিত: ৮:২৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২০ | আপডেট: ৮:৫৯:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২০

মো. মামুন তানভীর, দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দশমিনায় মাদরাসার জায়গায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের গুলি আউলিয়াপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার গুলি আউলিয়াপুর দারুল ইসলাম সিরাজিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের গুলি আউলিয়াপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ১৯৮৩ সালে গুলি আউলিয়াপুর দারুল ইসলাম সিরাজিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী নামে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ৮৪ সালের দিকে স্থানীয়রা মাদরাসাটির নামে ৩২ শতাংশ জমি দান করেন।

অপরদিকে ২০১১ সালের দিকে একই স্থানে ১২৩ নং রনগোপালদী ইউনিয়ন প্রাথমিক নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যার প্রতি এক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে আরও ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জনসংখ্যার দূরত্বও কম। নিয়ম অনুযায়ী দুই কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। অথচ নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ১২৩ নং রনগোপালদি ইউনিয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ১২৩ নং রনগোপালদি প্রাথমিক বিদ্যালয় নাম দিয়ে ও তথ্য গোপন করে বিদ্যালয়টি সরকারি ঘোষণা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তহমিনা বেগম নামে এক শিক্ষিকা চাকরি করে আসলেও চূড়ান্ত গ্রেজেট থেকে তাঁর নাম বাদ দিয়ে কাকলি দাস নামে একজনের নাম অন্তরভূক্ত করা হয়। এতে করে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অপরদিকে মাদরাসার নামে জমির দলিল থাকলেও বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ায় ওই স্থানে প্রাথমিকের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ।

এ ঘটনায় ২০১৮ সালের দিকে মাদরাসার সুপার মো. মোস্তফা কামাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওই বছরই সরকারি সার্ভেয়ারকে জমি মেপে প্রতিবেদন দিতে বললেও দুই বছরেরও তিনি প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। দীর্ঘদিন প্রাথমিকের ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নতুন করে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলে ওই মাদরাসার সুপার মো. মোস্তফা কামাল পটুয়াখালীর মোকাম দশমিনা বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে কাজ স্থগিত চেয়ে একটি মামলা করেন।

মামলায় প্রাথমিকের সভাপতি মো. মাহবুব খলিফা ও প্রধান শিক্ষক মো. মামুনসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। আদালত উপজেলা নির্বাহী অফিসার,উপজেলা প্রকৌশলী,প্রাথমিকের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকসহ ৬ জনকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শনের নোটিশ দেন। সংশ্লিষ্টারা আদালতে হাজির হয়ে এপ্রিলের ২৩ তারিখ পর্যন্ত সময় দাবি করেন। অন্যদিকে আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় ভবন নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় মাদরাসা ও প্রাথমিকের সংশ্লিষ্টদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভবনের কাজ স্থগিত রাখার দাবি জানান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় করোনা পরিস্থিতিতেও বিদ্যালয়ের ভবন নির্মানের কাজ চলমান রয়েছে ও একই সাথে অবৈধভাবে পাশের খাল থেকে বালু উত্তোলন করে বিরোধপূর্ণ জমির মাঠ ভরাট করছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, মাদরাসা ও প্রাথমিকের মাঝে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তিনি জানেন। তিনি আরও বলেন সরকারি জায়গা থেকে বালু উত্তোলনের নিয়ম নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. তানিয়া ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি দেখবো।