করোনায় দেশে ২ কোটি ৪৫ লাখ নতুন দরিদ্র

প্রকাশিত: ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১ | আপডেট: ৬:৫৭:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে একরকম অচল হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। সংক্রমণ এড়াতে একদিকে যেমন দেওয়া হচ্ছে লকডাউন, তেমনি এ লকডাউনে উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে অগণিত মানুষের। তাই বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

সেই সূত্র ধরেই ভয়ঙ্কর একটি তথ্য উঠে এসেছে সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি সমীক্ষা থেকে। করোনার প্রভাবে এবার নতুন করে প্রায় আড়াই কোটি (২ কোটি ৪৫ লাখ) মানুষ দরিদ্র হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক যৌথ সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

এক জরিপে দেখা গেছে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে নতুন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৭৫ ভাগ। জরিপে উঠে এসেছে গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে নতুন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

২০২০ সালের জুন পর্যন্ত দেশে দরিদ্র ছিল ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ। জরিপে যারা সাধারণত দারিদ্র্যসীমার ওপরেই বসবাস করেন, কিন্তু যেকোনো অভিঘাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারেন, তাদের নতুন দরিদ্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

এ বছরের মার্চ পর্যন্ত যেখানে শহরাঞ্চলে নতুন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৫৯ শতাংশ, সেখানে গ্রামাঞ্চলে তা ৪৪ শতাংশ। জাতীয় পরিসরে নতুন দরিদ্রের হিসাব (১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ) করা হয়েছে।

এ ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান এবং বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন। একই সঙ্গে সব শ্রেণিতেই ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে দেখা গেছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের হার সামগ্রিকভাবে ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।