করোনায় প্রতিবন্ধীদের পাশে চবি শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: ৪:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০ | আপডেট: ৪:৩৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

রাকিব বিন মোস্তফা, চবি প্রতিনিধি: মানুষ মানুষের জন্যে। আদিম যুগ থেকেই মানুষ একে অপরের প্রয়োজনে সমাজবদ্ধ জীবনযাপন করতে ভালোবাসে। অন্যদিকে আত্মসর্বস্ব মানুষ সমাজের জন্যে একপ্রকার বোঝা। কেননা আত্মকেন্দ্রীক মানুষগুলো সমাজে যোগ্য নাগরিক বলে বিবেচ্য নয়।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের বেশির ভাগ মানুষ যখন নিজের চিন্তায় ব্যস্ত। ঠিক তখনই আবার কিছু মানুষ এ ভয়াবহ পরিস্থিতে নিজের চিন্তা না করে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তাদেরই একজন আলী তানভীর। দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে এক এক করে অসহায় ৪৩ জন প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এ শিক্ষার্থী।তার সাথে এ মানবিক কাজে যুক্ত হয়েছেন তারই সহযোদ্ধা মুজিবুল হক ও হাফেজ ফয়েজ।

গত দুইমাসে দিয়েছেন ৫টি হুইল চেয়ার,৪৩টি প্রতিবন্ধীর বাড়িতে এক মাস বা ১৫ দিনের খাবার ও ওষুধ।।২৫জুন চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে পিতৃহীন দুই প্রতিবন্ধী বোন তসলিমা ও সুমির কাছে নগদ ৭০০০ টাকা,৪৩০০টাকার খাদ্যসামগ্রী ও ১৫০০টাকার ওষুধ পোঁছিয়ে দেন সাথে শারীরিক প্রতিবন্ধী সুমির জন্য একটা হুইল চেয়ার প্রদান করেন।৩০জুন পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে ফারজানার কাছে হুইল চেয়ার ও ২০০০হাজার টাকার খবার নিয়ে যান।১জুলাই কৈয়ারবিল ইউনিয়নের জিসানের কাছে ওয়াকার ও খাবার নিয়ে যান।২জুলাই কৈয়ারবিল ইউনিয়নে আগুনে পুড়া যাওয়া ২৭টি পরিবারের ৩০টি শিশুকে বিরানী রান্না করে খাওয়ান।

৩ জুলাই ৪০টি ৭০প্লাস অসহায় বৃদ্ধ মহিলাকে রান্না করে খাওয়ান এবং যাদের ওষুধ পত্র দরকার কিনে দেন।৫জুলাই কৈয়ারবিল ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী ফাহিমের কাছে হুইল চেয়ার ও ১৫দিনের খাবার দেন।১০জুলাই বিএমচর ইউনিয়নে ফারুকের কাছে হুইল চেয়ার ১৫দিনের খাবার দেন।১২জুলাই চকরিয়া পৌরসভার আসমার কাছে ১৫দিনের খাবার নিয়ে যান।১৮ জুলাই ৪১তম প্রতিবন্ধী পরিদর্শনে খাবার ও ওষুধ নিয়ে যান নদীতে ভেঙ্গে গৃহহীন হওয়া পিতৃহীন শারীরিক প্রতিবন্ধী কাসপার কাছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবি ছাত্রলীগ নেতা আলী তানভীর বাংলাদেশ টুডেকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছুটি হওয়ার পর গ্রামের বাড়ি চলে আসি। এসে দেখি করোনা পরিস্থিতিতে গ্রামে মানুষগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী আর অসহায় বৃদ্ধরা। তাই এলাকার যুবকদের একত্রিত করে কিছু একটা করার সিদ্ধান্ত নেই। তখন থেকেই আমাদের ধারাবাহিক ছোট্ট এ প্রয়াস।

খালেদা নামের এক প্রতিবন্ধীর মা ফিরোজা বেগম বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে আমাদের মেয়ে বাড়িতেই বসে থাকতো। কিন্তু কিছু যুবকের সহায়তায় আজ আমার মেয়ে বাইরের আলো দেখছে। আমি তাদের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর নিকট প্রাণভরে দোয়া জানাচ্ছি।