করোনায় রোজগার বন্ধ, ২৫০০ টাকায় কোলের শিশু বিক্রি!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২০ | আপডেট: ১:৫৭:অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২০

লকডাউনে কাজ হারিয়ে রোজগার বন্ধ হওয়ায় আড়াই মাসের কন্যা সন্তানকে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় এক দম্পতির বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ঘাটালে। পুলিশ ওই শিশুটিকে উদ্ধার করেছে।

ইন্ডিয়াটাইমস জানিয়েছে, আড়াই মাসের কন্যাসন্তানকে রাতেই হাওড়ার শ্যামপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ ও চাইল্ড লাইন ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে।

দারিদ্র নিত্যসঙ্গী। কিন্তু লকডাউনে পাঁচ বছরের ছেলে, আড়াই বছরের মেয়ের পেট ভরানোর জন্য আয়ের সংস্থান করতে পারেননি ঘাটাল শহরের কোন্নগরের বাসিন্দা বাপন ও তাপসী ধাড়া। তাই বেছে নেন তৃতীয় সন্তান অর্থাৎ আড়াই মাসের মেয়েকেই। নাড়িছেঁড়া ধনকে মাত্র তিন হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন হাওড়া শ্যামপুর থানার দক্ষিণ দুর্গাপুর গ্রামের নিঃসন্তান এক দম্পতির কাছে।

ঘাটালের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অগ্নিশ্বর চৌধুরী বলেন, ‘একটি সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ও চাইল্ড লাইনের যৌথ উদ্যোগে হাওড়া জেলার শ্যামপুর থানা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে বিক্রি করেছিল না আত্মীয়ের বাড়িতে এমনি দিয়ে দিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সন্দীপকুমার দাস বলেন, ‘পুলিশের সহযোগিতায় শিশুটিকে মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার করে নিয়ে এসে ঘাটাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কী কারণে বাবা-মা শিশুটিকে দিয়ে দিয়েছিলেন, পুলিশ তা তদন্ত করে দেখছে। আমরা তিন-চার দিন শিশুটিকে রাখব। তার পর যেহেতু তার জন্মদাতা বাবা-মা আছেন, তাই তাঁদের কাছে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বাবা-মা নিতে না চাইলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হবে।’

তাপসী অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। স্বামী প্রায়শই নেশা করে থাকেন। তেমন কোনও কাজ করেন না। বাড়িতে অভাব এবং তা নিয়ে অশান্তি রোজকার ঘটনা। কিন্তু লকডাউনে আর্থিক অবস্থা আরও সঙ্গীন হয়। তিন সন্তানকে কী ভাবে মানুষ করবেন, ভেবে পাচ্ছিলেন না। তাই দু’জনে যুক্তি করে আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিক্রি করে দেন তৃতীয় সন্তানকে। ঘটনা জানাজানি হয়েছে এবং পুলিশ তাঁদের শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে জানতে পেরেই পুলিশের ভয়ে গা ঠাকা দিয়েছেন তাপসী ও বাপন। তাই কোনও ভাবেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

তাপসীর বাপের বাড়ি দাসপুর দুই ব্লকের সোনাখালি এলাকায়। শ্যামপুরের দক্ষিণ দুর্গাপুর গ্রামের যে নিঃসন্তান দম্পতির বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে আনা হয়েছে, তাঁরা তাপসীদের দূরসম্পর্কের আত্মীয়।

এই লকডাউনের মধ্যে কী ভাবে হাওড়া শ্যামপুরের ওই নিঃসন্তান দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ করলেন?

কেউ কেউ বলছেন, তাপসীর বাপের বাড়ির মাধ্যমেই যোগাযোগ হয়েছিল। অতি গোপনে দুধের কন্যাসন্তানকে বিক্রি করেও শেষ রক্ষা হল না। চাইল্ড লাইন ও পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে শিশুটিকে।

ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দোলুই বলেন, ‘অভাবের জন্য শিশু বিক্রি করেছে এ কথা আমি মানতে পারছি না। বর্তমান সরকারের আমলে কেউ না খেতে পেয়ে রয়েছে, এটা ঠিক নয়। সরকারের কত রকম প্রকল্প রয়েছে। সভ্য সমাজে এমন ঘটনা লজ্জাজনক। এই ঘটনা শুনে ওই দম্পতির প্রতি ঘৃণা হচ্ছে।’

ঘাটাল শহরে জুড়ে একটাই আলোচনা, কতটা অর্থ সঙ্কটে পড়লে মানুষ নিজের শিশুকে বিক্রি করে? নাকি এই ঘটনা আসলে টাকার লোভে?

উত্তর অজানা এখনও!