করোনা টিকার অর্ধেকই ধনী দেশের দখলে

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০ | আপডেট: ৬:০২:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

করোনা মহামারীতে পর্যদুস্ত সারাবিশ্ব। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৫ কোটি ৭৯ লক্ষাধিক মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ১৩ লাখ ৭৭ হাজারেরও অধিক মানুষের। প্রথম ধাপের আক্রমণ শেষ করে দ্বিতীয় ধাপে আরও আগ্রাসী হয়েছে ভাইরাসটি। এমন দুঃসময়ে মানুষের আশা, ভ্যাকসিন আসবে। এ মহামারী থেকে নিস্তার পাবে।

বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের একমাত্র সমাধান হলো, বৈশ্বিক একতা। তথা ঐক্যবদ্ধভাবে সমাধান। সেটা ভ্যাকসিন প্রয়োগে হোক কিংবা অন্য যেকোনো সমাধানের পথ হোক। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

তবে মূল সমাধান হলো ভ্যাকসিন। সব আশার একটাই আশা হিসেবে এখন ভ্যাকসিনেই আশা দেখছেন বিশ্ববাসী।

বিশ্বজুড়ে ১৫০টির বেশি ভ্যাকসিন তৈরি ও পরীক্ষার কাজ চলছে। বর্তমানে অনেকগুলো ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রাশিয়ার ‘স্পুটনিক ভি’ ভ্যাকসিনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও মডার্না অনুমোদনের অপেক্ষায়।

বায়োএনটেক ও ফাইজার বলেছে, তাদের ভ্যাকসিন ৯৫ শতাংশ সফল। আর মডার্নাও বলছে, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন ৯৫ শতাংশ নিরাপদ। যদিও এসব ভ্যাকসিনের কোনোটাই চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

নিজেদের নাগরিকদের জন্য করোনাভাইরাসের টিকা নিশ্চিত করতে ভ্যাকসিনগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার আগেই সেগুলো আগাম চুক্তিতে কিনে রাখছে বিশ্বের ধনী দেশগুলো। ওষুধ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অগ্রিম চুক্তির বেশিরভাগই করেছে উন্নত দেশ।

ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল হেলথ ইনোভেশন কেন্দ্রের গবেষকদের সংগৃহীত তথ্যমতে, করোনাভাইরাসের সম্ভ্যাব্য টিকার অর্ধেকের বেশি অগ্রিম কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে উচ্চ-আয়ের দেশগুলো।

প্রি-অর্ডারের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই দখলে। দেশটি আধা ডজন ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির কাছ থেকে এক বিলিয়নের বেশি ডোজ প্রি-অর্ডার করে রেখেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের জন্য তিনটি করে করোনার টিকা ইতোমধ্যে বরাদ্দ হয়ে গেছে!

অন্যদিকে কানাডা আরও এক কদম এগিয়ে। তারা প্রতি নাগরিকের জন্য দশটি করে ডোজের বন্দোবস্ত আগাম করে রেখেছে। একক ব্যক্তির জন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এটাই সর্বাধিক।

২০২১ সালের শেষ নাগাদ ফাইজার-বায়োএনটেক যে পরিমাণ ভ্যাকসিন উত্পাদন করতে পারবে তার অর্ধেক, প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডোজ অগ্রিম কেনার চুক্তি সম্পন্ন করে ফেলেছে গুটিকয়েক দেশ।

তবে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ধনী দেশগুলোর নাগরিকদের মতো ভাগ্যবান নয় পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের নাগরিকরা। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, দরিদ্র দেশগুলিকে মূলত নির্ভর করতে হবে কোভ্যাক্সের ওপর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে যে ভ্যাকসিনটির কার্যক্রম চলছে। এই উদ্যোগের অংশ নেওয়া দেশগুলোর জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডোজ কেনার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আয়-নির্বিশেষে অংশগ্রহণকারী সব দেশে সমানভাবে কোভ্যাক্স বিতরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থাটি। তবে এতে দেশগুলোর এক-পঞ্চমাংশ নাগরিককে করোনার টিকা সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

কয়েকটি উন্নত দেশ প্রতিবেশী অনুন্নত দেশকে করোনার ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া তার প্রতি নাগরিকের জন্য পাঁচটি করে টিকার অগ্রিম চুক্তি করে রেখেছে। একই সঙ্গে দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রতিবেশী ভানুয়াতু ও কিরিবাতির মতো ছোট্ট দেশের নাগরিকদের ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অন্যদিকে চীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভ্যাক্স উদ্যোগে যুক্ত হয়ে ঘোষণা দিয়েছে, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে থাকা বার্মা, কম্বোডিয়া ও ফিলিাইন্সসহ দরিদ্র কয়েকটি দেশের সঙ্গে করোনা ভ্যাকসিন ভাগাভাগি করে নেবে।

তবে কার্যকরী ভ্যাকসিনের সরবরাহ নিতান্তই যদি স্বল্প হয় তবে এই সব হিসাব-নিকাশ, প্রতিশ্রুতি ও অগ্রিম চুক্তি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। কিংবা মানুষজন যদি সরবরাহকৃত টিকায় ভরসা না করে তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। গত জুনে একদল গবেষক ১৯টি দেশের ১৩ হাজার নাগরিককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তারা নিরাপদ ও কার্যকর টিকা গ্রহণ করবেন কিনা? এক-চতুর্থাংশের বেশি উত্তরদাতা জবাবে ‘না’ বলে দিয়েছিলেন।

সূত্র: দি ইকোনমিস্ট