করোনা পরীক্ষায় নতুন চমক ‘ফেলুদা’

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২০ | আপডেট: ৮:৫৭:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২০

র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের থেকে আরও দ্রুত এবং সঠিকভাবে করোনা শনাক্ত করতে পারে এমন একটি কিট আবিষ্কার করেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। উৎপাদনে সাশ্রয়ী কাগজ দিয়ে তৈরি এই কিটটি গর্ভাবস্থা পরীক্ষার মতোই দ্রুত ফলাফল জানাতে পারে।

সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ‘ফেলুদা’র নামেই এটির নামকরণ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই কিট করোনা পরীক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জিনভিত্তিক প্রযুক্তি ক্রিসপারের সহায়তায় করোনার এ পরীক্ষা করা হবে। এতে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে মিলবে ফলাফল। এ পরীক্ষায় খরচ হবে ভারতীয় মুদ্রায় মাত্র ৫০০ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৭৮ টাকা।

বলা হচ্ছে, ফেলুদা কিটের মাধ্যমে করোনা পরীক্ষায় কাগজ-ভিত্তিক পদ্ধতি হিসেবে এটিই বিশ্বের প্রথম। এ কিট তৈরি করবে ভারতের টাটা কোম্পানি। এটি বাজারে সহজলভ্য করার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।

এটিকে ‘সহজ, সুনির্দিষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য ও কম খরচের পরীক্ষা’ বলে বর্ণনা করেছেন ভারতীয় সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অধ্যাপক কে বিজয় রাঘবান। কিটটি নিয়ে গবেষণা করছেন দিল্লি-ভিত্তিক সিএসআইআর-ইন্সটিটিউট অফ জিনোমিক্স অ্যান্ড ইনটিগ্রেটিভ বায়োলজির (আইজিআইবি) গবেষকেরা। গবেষণা চলে বেসরকারি পরীক্ষাগারগুলোতেও।

কিট নিয়ে কাজ করা ভারতীয় গবেষক দল

নতুন এ পদ্ধতিতে প্রায় দুই হাজার রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণা করা হয়। যাদের মধ্যে আগে থেকেই করোনা শনাক্ত হওয়া একজনও ছিলেন। এ পরীক্ষায় সংবেদনশীলতা ৯৬ শতাংশ ও ৯৮ ভাগ যথার্থতা পাওয়া গেছে। এ পরীক্ষায় খুব বেশি ‘ফলস নেগেটিভ’ বা ‘ফলস পজেটিভ’ ফলাফল পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ, রোগতত্ত্ব ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দেয়া সংবেদনশীলতা ও যথার্থতার মানদণ্ডে ফেলুদা কিট কার্যকর বলেই মনে হচ্ছে।