করোনা: ফ্রান্সে কারফিউ জারি

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০ | আপডেট: ১০:৫১:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

করোনাভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটনের জন্য বিখ্যাত ইউরোপের নানা শহর। হারিয়ে গেছে সেই চেনা ছবিগুলো। জনশূন্য হয়ে পড়ে আছে প্যারিসে আইফেল টাওয়ারের আশপাশ। মানুষহীন রাস্তার ধারে কাফে-রেস্তরাঁগুলো।

করোনাকালীন সময়ে কিছুদিন আগে স্বল্প পরিসরে আগের চেহারায় ফিরেছিল প্রেমের শহর প্যারিস। শুরু হয়েছিলো মানুষের পদচারণা। সীমিতভাবে ঘর থেকে বের হয়েছিলো অনেকেই। তবে করোনার প্রাদুর্ভাব ফের বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারো জরুরী অবস্থার মধ্যে যেতে হচ্ছে প্যারিসবাসীকে।

ফ্রান্সে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকা করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় রাজধানী প্যারিস এবং অন্য আরও আটটি শহরে রাত্রিকালীন কারফিউ জারির ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।

বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে ম্যাখোঁ বলেছেন, কারফিউ কার্যকর হবে শনিবার থেকে। চলবে অন্তত চার সপ্তাহ। মানুষজনকে রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ঘরে থাকতে হবে। কারফিউ ভঙ্গ করলে গুনতে হবে জরিমানা।

এর কিছুক্ষণ আগে ফ্রান্স সরকার নতুন করে জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেছে। ম্যাখোঁ বলেছেন, ‘আমরা (মহামারির) দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।’

ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মতো ফ্রান্সও করোনাভাইরাস সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বুধবার দেশটিতে নতুন ২২ হাজার ৫৯১ জনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো ফ্রান্সে দৈনিক সংক্রমণ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ পর্যন্ত ভাইরাসে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩২ হাজারের বেশি মানুষের।

ম্যাখোঁ বলেছেন, ফ্রান্সে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি জানান, কারফিউয়ের আওতায় মানুষ সন্ধ্যায় কিংবা রাতে কোনো রেস্তোরাঁয় কিংবা কারও বাসায় যেতে পারবে না। শুধু জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া যাবে। কেউ কারফিউ ভঙ্গ করলে তাকে ১৩৫ (১৫৯ ডলার) ইউরো জরিমানা দিতে হবে।

তবে ফ্রান্সে গণপরিবহনের ওপর কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। মানুষ অবাধেই এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াত করতে পারবে। যদিও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাতের ক্ষেত্রে ছয়জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ফ্রান্সে বর্তমানে দৈনিক সংক্রমণের হার ২০ হাজার থেকে তিন হাজারে নামিয়ে আনা এবং হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রোগীর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই কড়াকড়ির এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।