করোনা রোধে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন

প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২০ | আপডেট: ৬:২৮:অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২০
ফাইল ছবি

বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ হাজার ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এদিকে বাংলাদেশে প্রথম একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর খরব জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে জনগণকে নিরাপদ রাখার স্বার্থে দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্থান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। বিপদসঙ্কুল এমন পরিবেশে ইতোমধ্যে সমাবেশ, ভিড়, ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। আইইডিসিআরসহ দেশের চিকিৎসকরাও একাধিক মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সমুদ্রসৈকতে না যেতে নির্দেশ দিয়েছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ কে বৈশ্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে। তাই খুব প্রয়োজন ছাড়া এ মুহূর্তে বিদেশ ভ্রমণ না করাই ভালো।’ কোভিড-১৯ নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মলেনে তিনি এ পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকরা মনে করেন, বাইরে যেতে চাইলেও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে যেকোনো জায়গায় রেলিং, দরজার নব, গেট, হাতল, কম্পিউটারের মাউস, টাকা, পাসপোর্ট ইত্যাদি স্পর্শ করার পরপরই হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে সব জায়গায় সাবান-পানি পাওয়া যায় না। তাই ব্যাগে বা পকেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখুন। চোখ, নাক ও মুখে হাত বা আঙুল লাগানো থেকে বিরত থাকুন।

এমনকি জ্বর-কাশি থাকলে ভ্রমণ বাতিলের চেষ্টা করতে হবে। ভ্রমণরত অবস্থায় এ দুই উপসর্গের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। প্রবাসী হলে বা অন্য আক্রান্ত এলাকায় সম্প্রতি ভ্রমণ করে থাকলে তা চিকিৎসককে জানাতে হবে।

এছাড়া পশু-পাখি সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ নিরাপদ নয়। পশু-পাখির খামারে গেলেও সুরক্ষামূলক গ্লাভস, মাস্ক ও গাউন পরতে হবে। ভ্রমণকৃত এলাকার হোটেলে খাবার টেবিল, ট্রে, ওয়াশ রুম পরিষ্কার ও পরিশোধিত কি-না, তা আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। হোটেলের বেয়ারাকে হাত পরিষ্কার করে খাবার পরিবেশন করতে বলবেন।

ভ্রমণের কোনো কাজে সারিতে দাঁড়াতে হলে নিজের সুরক্ষার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। ভ্রমণ করলেও অন্তত ১৪ দিন পর্যন্ত সতর্ক থাকুন। এ সময় জনসমাগমে না যাওয়াই ভালো। বাসায় আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে চেষ্টা করুন। কারণ আপনার একটু অসতর্কতাই অন্যের বিপদের কারণ হতে পারে।

তাই যতটা সম্ভব সবধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকাই উত্তম। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে যত ইচ্ছা ভ্রমণ করতে পারবেন। আপাতত সংযত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।