করোনা সংকটে দেশসেবার দ্বিতীয় সুযোগ দেখছেন ড. জাফরুল্লাহ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২০ | আপডেট: ৫:২১:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২০
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। নানা কারণে এ নামটি দেশের মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। এর অন্যতম দুটি কারণ হলো- তিনি দেশের মুক্তির সংগ্রামের সময় আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ফিল্ড হাসপাতাল। এর পর দেশ স্বাধীন হলে গণমানুষের চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যেমন দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তেমনি চলমান করোনা সংকটেও দেশ তথা গণমানুষের কাতারে শামিল হয়ে পরিস্থিতি উত্তরণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রবীণ এ চিকিৎসক। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখতে পারায় নিজেকে গর্বিত মনে করেন তিনি। আর তাই বর্তমান সংকট উত্তরণে মানুষের পাশে থাকতে পারাকে দেশসেবার দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে দেখছেন ড. জাফরুল্লাহ।

দেশ যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কবলে পড়ে তখন থেকেই তিনি চেষ্টা করছেন কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায়। এর অংশ হিসেবে প্রথমে দেশে কিট সংকট মেটানোর উদ্যোগ নেন। বিষয়টি তিনি নিজেই একটি গণমাধ্যমকে বলেন, শুরুতে দেশে কিটের সংকট ছিল। এ জন্য প্রথমে কিটের সংকট মেটাতে নিজেরাই কিট উৎপাদনের উদ্যোগ নেই। এর পরই গণমাধ্যমে বলা হয়, ২০০ টাকায় কিট আনছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রবীণ এ চিকিৎসক বলেন, কিট তৈরির উপাদান আসলে ব্রিটেন থেকে আসার কথা ছিল। কিন্তু দেশটিতে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় এখন চীন থেকে এসব উপাদান আনা হচ্ছে। আগামী ৬ এপ্রিল একটি ফ্লাইটে কিট তৈরির উপাদান আসার কথা রয়েছে। যদি আসে তাহলে ১৫ এপ্রিলের আগেই নমুনা তৈরি করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, চীন থেকে কিট আনার ব্যাপারে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহাবুবুজ্জামান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিট উৎপাদন করে বাজারে ছাড়া সম্ভব হলে তা দিয়ে ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে করোনা পরীক্ষা করা যাবে বলেও জানান ড. জাফরুল্লাহ।

অভিজ্ঞ এ চিকিৎসক বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। সবাই সেটা প্রত্যক্ষ করছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষার ব্যাপারে জোর দিচ্ছে। কারণ যত বেশি পরীক্ষা হবে তত বেশি মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হবে।

এদিকে, দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সবকিছু বন্ধ থাকায় নিদারুণ কষ্টে পড়েছেন মানুষ। বিশেষ করে, দিন এনে দিন খাওয়া মানুষরা পড়েছেন অসহায় অবস্থায়। তাদের সহায়তার জন্যও এগিয়ে এসেছেন ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এই মুহুর্তে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি, কিন্তু সামাজিক বৈষম্য না। বরং এই সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তারা ইতোমধ্যে এক হাজার অসহায় পরিবারকে খাবার দিয়েছেন। আগামীতের এক লাখ মানুষকে খাবার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান ড. জাফরুল্লাহ।

সরকারের উদ্দেশে এই চিন্তাবিদ বলেন, তাদের উচিত, এক কোটি দারিদ্র পরিবারকে খাবার দেয়া। হিসাব করে দেখা গেছে, এতে সরকারের মাত্র সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে।

এ ছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে সহযোগিতা করার জন্য সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি। তাদেরকে সহযোগিতা করা হলে তা সমাজের অসহায় মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে অসহায় পরিবারগুলোকে আর বাইরে যেতে হবে না। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যেমন সহজ হবে, পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোও একটু নিশ্চিতে থাকতে পারবে।