কর্ণফুলীতে বালু আনলোডিং নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, চট্টগ্রাম বন্দর ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা

এস. এম. আকাশ এস. এম. আকাশ

ব্যুরো চিফ,চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২১ | আপডেট: ৮:০৩:অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২১

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীর ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে বিপত্তিতে পড়েছে ভূমি শাখা। জরুরি ভিত্তিতে তা অপসারণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের হাইড্রোগ্রাফার শাখা,এ নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে স্নায়ু লড়াই চলছে বলে এক শ্রেণীর সুবিধাভোগীরা গুঞ্জন ছড়াচ্ছে।

কর্ণফুলী নদীর বেপরোয়া অবৈধ দখল উচ্ছেদের রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন।

এছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দরের এক অনুষ্ঠানে নদীর তীর ইজারা না দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী । এর মধ্যেই গত ৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আদলে বন্দরের ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) মো. জিল্লুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে নদীর কালুরঘাট সেতুর বোয়ালখালী এলাকায় তিন মাসের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে বালু আনলোডিংয়ের অনুমতি দিয়েছেন, যার সময়সীমা পার হয়ে গেছে।

চার শর্তে এ অনুমোদন, ভলগেট থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন তিনি। শর্তের মধ্যে রয়েছে, নদীর ব্যাংক লাইন থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে বালুর স্তুপ করা যাবে না। নদীর তীর ভরাট করা যাবে না। এছাড়াও রয়েছে, আনলোডিংয়ের কারণে নদীর তীর ক্ষতিগ্রস্ত হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। বন্দরের বালু মহাল ইজারা বহির্ভূত মেসার্স হোমল্যান্ড বিল্ডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে নদীর তীর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন ডেপুটি ম্যানেজার আবার নিয়ম বা শর্ত ভঙ্গ করার জন্য ও মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় দাড়িয়ে থাকা ড্রেজার কর্তৃপক্ষ কে এক লক্ষ টাকা জরিমানাও করেছে বন্দর কতৃপক্ষ। এদিকে এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বন্দরের ইজারাপ্রাপ্ত বালু মহালের ইজারাদাররা। তাদের অভিমত, ডেপুটি ম্যানেজার নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালু আনলোডিংয়ের অনুমতি দিয়েছেন। বন্দরের ইজারাদার ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে বন্দর এলাকায় আনলোডিংয়ের অনুমতি দেওয়া বন্দর আইনের পরিপন্থী।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালুরঘাট সেতু এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে ওঠেছে অন্তত ১০টি বালু মহাল। একইভাবে বন্দর থেকে তিন মাসের অনুমতি নিয়ে শর্ত ভঙ্গ করে ও পরোক্ষভাবে নদীর তীর দখলের পথ সুগম করা হয়েছে বলে দাবি বিশিষ্ট পরিবেশবাদীদের।

বন্দরের ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) মো. জিল্লুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে তিনি “দি বাংলাদেশ টুডে” কে বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানটি জেলা প্রশাসনের অধীনে বালুমহাল-১ থেকে বালু উত্তোলনের ইজারা পেয়েছে,এতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে। আমরা বন্দর কতৃপক্ষ শুধু মাত্র বালু তোলার জন্য অনুমতি দিয়েছি, বালু কাটার জন্য নহে, তিন মাসের জন্য অর্থাৎ ৩১ শে মার্চ পর্যন্ত অনুমতি দেয়া হয়েছিল এবং এর মধ্যে এই অনুমতি নবায়ন করা হয়নি বরং ওদের ড্রেজার কে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে জরিমানা করেছি নিয়ম ও শর্ত ভঙ্গ করায় । এর পরেও কেউ যদি বন্দর কতৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার দিকে প্রশ্ন তুলে তবে সত্যিই দুঃখজনক ।

বন্দরের হাইড্রোগ্রাফার বিভাগের পক্ষে আপত্তিকর কোন বক্তব্য দেয়নি বলে তিনি দাবি করে বলেন, এটা একটা মহলের কারসাজি রয়েছে বলে মনে হয়, বন্দর কতৃপক্ষের সুনাম বিনষ্ট করার অপচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। বন্দর কতৃপক্ষের প্রতিটি বিভাগ একে অপরের পরিপূরক, এক কথায় একটা দেশ বিনির্মানের শক্তিশালী একটি পরিবার, এখানে নিজেদের মধ্যে কোন দ্বিমত নেই । একটা কথা সকলের মনে রাখা উচিত অনুমতি দেয়ার এখতিয়ার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের আমরা দায়িত্বশীল হিসেবে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পক্ষে স্বাক্ষর করি মাত্র, বন্দরের সকল সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যান মহোদয় দিয়ে থাকেন আমরা যে যেই বিভাগে দায়িত্বরত তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পালন করি। এখানে যা দ্বিমত রয়েছে তা ড্রেজার সংশ্লিষ্টদের মাঝে বন্দরের কোন ভূমিকা নেই, আর যে বালু তোলার কথা হচ্ছে এটা কিন্তু জেলা প্রশাসনের ।

একই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বন্দর কতৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফার বিভাগের প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ আরিফ ওভার ফোনে “দি বাংলাদেশ টুডে” কে বলেন, নদী থেকে উত্তোলিত বালু ভলগেট থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে আনলোডিংয়ের অনুমতি জেলা প্রশাসক ছাড়াও বন্দর কতৃপক্ষের সীমানায় হলে বন্দর কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান দেন, আর আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেই অনুমোদনের পক্ষে স্বাক্ষর করি।

এতে সমস্যা দেখা দিলে চুক্তি আর নবায়ন করা হয় না। তবে নিয়মানুসারে বন্দরের বালু সংক্রান্ত বিষয়ে দেখভালের দায়িত্ব হাইড্রোগ্রাফার শাখার। কিন্তু আনালোডিংয়ের অনুমতি দিয়েছে এস্টেট শাখা। আমি শুধু মাত্র চিফ হাইড্রোগ্রাফার হিসেবে আমার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট সেতু এলাকা হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে অনুযায়ী বালুর ইজারা প্রদান করে বন্দর। শুধুমাত্র বন্দর কর্তৃক অনুমোদিত ইজারাদার প্রতিষ্ঠানই ড্রেজিং করতে পারবে।

কালুরঘাট সেতু এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠান আনলোড ড্রেজার অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এতে ড্রেজিং কাজে শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। তাই আনলোড ড্রেজার দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন। আনলোড ড্রেজার অপসারণের জন্য একই প্রতিষ্ঠানের অথারাইজড অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। আমাদের বন্দর কতৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত বিভাগ সমূহের মধ্যে স্নায়ু দ্বন্দ্ব আছে বলে যে গুঞ্জন হচ্ছে তা মোটেও ঠিক নয়। বন্দর কতৃপক্ষের সুনাম ও দায়িত্বশীলতা অক্ষুন্ন রাখতে গোটা বন্দর পরিবার ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করছে, আমরা সবাই এক ও অভিন্ন