কর্পোরেট সিমের তথ্য দিতে পারেনি অপারেটররা

প্রকাশিত: 9:29 PM, December 2, 2019 | আপডেট: 9:29:PM, December 2, 2019

কর্পোরেট সিমে অপরাধ হওয়া ঠেকাতে ব্যবহারকারীর তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিটিআরসির কাছে জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল গত ৩০ নভেম্বর। ঐ সময়ের মধ্যে ব্যবহারকারীদের তথ্য হালনাগাদ করা না হলে সেই সিম বন্ধ করা হবে বলে একটি গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করেছিল বিটিআরসি।

গ্রাহক ও অপারেটরদের এক্ষেত্রে সহযোগীতার উদ্দেশ্যে নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ সংক্রান্ত প্রচারণা চালায় বিটিআরসি।

তবে ২০ নভেম্বর দেওয়া সেই নিদের্শনা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে অপারেটরগুলো।

ওই নির্দেশনায় অপারেটরগুলোকে কর্পোরেট গ্রাহকদের তথ্য হালনাগাদ করতে ১০ দিনের সময় বেঁধে দেয় বিটিআরসি। সেটি না হলে ডিসেম্বরে এ ধরনের মোবাইল সংযোগ বন্ধ করাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিটিআরসির ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যাতে গ্রাহকরা অপারেটরদেরকে এক্ষেত্রে সহযোগিতা করে, বলে জানান এক কর্মকর্তা।

গত রোববার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একমাত্র টেলিটক তাদের মোট কর্পোরেট গ্রাহকের কিছু তথ্য দিলেও বাকি তিন অপারেটর কোনো তথ্যই দেয়নি।

এখন এ বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত হবে সেটি কমিশন বৈঠকে ঠিক হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য হালনাগাদ করা না হলে সেসব সংযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে কমিশন থেকে।

এর আগে ২০১৬ সালে সরকার সব মোবাইল ফোন সংযোগের বিপরীতে বায়োমেট্টিক ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করে সেটি কার্যকরও করে। তবে কর্পোরেট সিমের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় ছিল বিটিআরসি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্পোরেট সিমের ক্ষেত্রে একটি অফিসের শুধু একজন ফোকাল পয়েন্টের সব তথ্য এবং বায়োমেট্টিক ভেরিফিকেশন হয়ে থাকে। বাকি যারা এই সব সিম ব্যবহার করেন তাদের শুধু  নামের তালিকা জমা দিতে হয়।

এসব সিম যেহেতু নানা সময়ে নানান জন ব্যবহার করেন সে কারণেই মাঝে মাঝেই তাদের তথ্য নেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে কর্পোরেট ইস্যুকৃত সিম অনেক সময়েই উচ্চ মূল্যে কিনে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ আছে।

গত বছরও র্যা বের অভিযানে এমন পাঁচ শতাধিত কর্পোরেট সিমসহ গ্রামীণফোনের দুই জন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার হয়। ওই সব সিমের সবই আগে থেকেই চালু অবস্থায় ছিল।

তারপর থেকেই এ ধরনের অযাচিত সিম ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে বিটিআরসি।

ফলে গত ফেব্রুয়ারিতে কর্পোরেট সিম নিবন্ধের ক্ষেত্রে পাঁচটি নির্দেশনা জারি করা হয় যেখানে পূর্বানুমোদনের পরেই কর্পোরেট হাউজগুলোর কাছে সিম বিক্রির অনুমোদন দেওয়ার বিধান চালু করা হয়।