কলকাতায় পুলিশ-সিবিআই সংঘর্ষের ঘটনায় ধর্নায় বসলেন মমতা

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৪১:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯
সংগৃহীত ছবি

রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজিব কুমারের বাংলোয় নজিরবিহীন ভাবে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই হানাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ব্যাপক ক্ষেপেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অমিত দোভালকে দোষারোপ করে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ধর্নায় বসার ঘোষণা দিয়েছেন মমতা।

সন্ধ্যায় ডিএসপি তথাগত বর্ধনের নেতৃত্বে ৪০ জনের সিবিআই দল কথা বলতে যায় লাউডন স্ট্রিটে পুলিশ কমিশনার রাজিব কুমারের বাড়িতে। তল্লাশি করারও কথা ছিল।

কিন্তু আগাম জানতে পেরে পুলিশ কমিশনারের বাড়ির সামনে জড়ো হন পুলিশ কর্মীরা। বাধা দেওয়া হয় সিবিআই কর্মকর্তাদের। স্থানীয় থানায় যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে।

পরে সেখানে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মমতা। সেখানে তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে অভ্যুত্থান করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি জরুরি অবস্থার থেকেও ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশের সংবিধান বাঁচাতে মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসবেন বলেও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার বিকালে হঠাৎই কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজিব কুমারের সরকারি বাংলোয় পৌঁছান ৪০ জনের একটি সিবিআই দল। যদিও লাউডন স্ট্রিটে পুলিশ কমিশনারের সরকারি বাসভবনে আগে থেকেই মোতায়েন ছিলেন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা সিবিআই কর্মকর্তাদের বাধা দেন।

শুধু বাধা দেওয়াই নয়, কলকাতা পুলিশের সঙ্গে রীতিমত ধাক্কাধাক্কি এবং ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় সিবিআই কর্মকর্তাদের। কলকাতা পুলিশের আকর্মকর্তারা জোর করে সিবিআই আকর্মকর্তাদের গাড়িতে তুলে শেক্সপিয়র সরণি থানায় নিয়ে যান।

শনিবার থেকেই জল্পনা চলছিল যে সারদা এবং রোজভ্যালি চিট ফান্ড মামলায় কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে জেরা করতে চায় সিবিআই।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সিবিআই সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায়,সিবিআই কর্মকর্তাদের তরফে তাদের জানানো হয়েছে, রাজিব কুমারকে একাধিক বার হাজিরার জন্য নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি আসেননি। ‘সর্বশেষ উপায়’ হিসেবে গ্রেপ্তারির মতো চূড়ান্ত পদক্ষেপের সংস্থান আছে বলেও ওই কর্মকর্তারা ওই সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন।

শনিবার থেকে শুরু হওয়া ওই জল্পনা নিয়ে কড়া অবস্থান জানায় লালবাজার। সিবিআই কর্মকর্তারা লাউডন স্ট্রিটে পৌঁছোনর ঠিক এক ঘণ্টা আগেই লালবাজারে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তরে বসে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (১) জাভেদ শামিম বলেন, তারা কড়া আইনি ব্যবস্থা নেবেন। তার এক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ কমিশনারের বাড়ি পৌঁছায় সিবিআই কর্মকর্তারা।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের কাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্ত চলছে। সিবিআই কর্মকর্তারা তদন্ত করতে গিয়েছিলেন। পুলিশ তাদের জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। সিবিআই কর্মকর্তার বাড়ি এবং সিবিআই অফিস পুলিশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রাণ সংশয় রয়েছে। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বলেছি।
Add Image

সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, ‘সংবিধান পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে হানা দেওয়ার সাহস কি করে হয় আপনাদের? বিজেপি রাজনৈতিক লড়াই করতে পারছে না। তাই তারা সিবিআই-কে ব্যবহার করছে।’

মমতা বলেন, ‘সংবিধান বাঁচাতে আমি ধর্নায় বসছি। আমি মেট্রো চ্যানেলের সামনে যাচ্ছি। এই ধর্না সংবিধান বাঁচানোর ধর্না।’
Add Image