কলকাতায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে শিশু নিহত, আহত ১১

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৮ | আপডেট: ৪:২৯:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৮

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি বহুতল ভবনের সামনে মঙ্গলবার শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে আট বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। এতে আহত ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানায় আনন্দবাজার পত্রিকা।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, দমদম থানার অধীনের নাগেরবাজারের কাজিপাড়ায় একটি বহুতল ভবনের নিচের তলার ফলের দোকানের সামনে সকাল ন’টার দিকে বিস্ফোরণটি ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এক পুলিশকর্তা জানান, ওই বহুতলেই দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যানের অফিসও রয়েছে। ঘটনাস্থলে তদন্তকারী দল কুকুর নিয়ে উপস্থিত হয়ে বিস্ফোরণের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করছে বলেও জানায় পুলিশ।

‘প্রাথমিকভাবে আমরা ভেবেছিলাম সিলিন্ডার ফেটে গিয়েই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ঘটেছে। এখন বুঝতে পারছি, এই বিস্ফোরণের সঙ্গে সিলিন্ডারের কোনও সম্পর্ক নেই। কী কারণে ঘটল, তা-ই খতিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে’, সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন এক তদন্তকারী অফিসার।

এদিকে, দক্ষিণ দমদম পৌরসভার চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোন অশুভ শক্তি এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে কাজ করছে তা আমরা আন্দাজ করতে পারছি। গোটা বাংলাতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণের ষড়যন্ত্র করে চলেছে তারা’।

আনন্দবাজার জানায়, ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে ১২ জন গুরুতর জখম হন। তাদের মধ্যে একজন শিশু ও মহিলা ছিলেন।

উদ্ধার করে আহতদের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের সকলকেই করা হয় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়।

আহত শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে এসএসকেএমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মৃত্যু হয় আট বছরের বিভাস ঘোষের। চার জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

যেখানে এই বিস্ফোরণ হয়েছে সেই সিমা অ্যাপার্টমেন্টের প্রোমোটার রণবীর বিশ্বাস ওই বাড়িতেই থাকেন। তিনি বলেন, ‘সকাল তখন সাড়ে ৯টা হবে। আমি ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ করেই বিশাল একটা আওয়াজ। কেঁপে ওঠে গোটা বাড়িটা।

ঝনঝন করে ভেঙে পড়ে কাচের দরজা-জানলা। তড়িঘড়ি নীচে নেমে এসে দেখি মিষ্টির দোকানের শাটারটা উড়ে গিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেশ কয়েক জন। ওদের সকলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই সঙ্গে সঙ্গে।’

ঘটনার পর নাগেরবাজারে পৌঁছয় ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তের পর কমিশনার রাজেশ কুমার বলেন, ‘দেশীয় পদ্ধতিতে বানানো উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সকেট বোমাই ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সেই জন্যই বিস্ফোরণের এত প্রবল অভিঘাত। প্রাথমিকভাবে আমরা এখনও কোনও ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)-এর হদিশ পাইনি।’

ঘটনার পর ওই এলাকায় একটি মুখ বাঁধা বস্তা পাওয়া যায়। সিআইডির বম্ব ডিটেকশন এ্যান্ড ডিসপোসাল স্কোয়াডের বিশেষজ্ঞরা বিশেষ পোশাক পরে ওই বস্তা খুলে দেখেন। কিন্তু সেই বস্তা থেকে কিছু ধূপকাঠির প্যাকেট এবং খাতা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি।