কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি, এএসআই প্রত্যাহার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ | আপডেট: ২:৩৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮

তদন্ত করতে গিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সিলেটের বিশ্বনাথ থানার এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে সিলেট পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।

ওই কলেজছাত্রীর পরিবারের ভাষ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার সদর ইউনিয়নের জানাইয়া মশুলার বাসিন্দা আশিক আলীর মেয়ে বিশ্বনাথ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর (১৯) পরিবারের বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় একটি অভিযোগ দেন তার সৎ মা মনোয়ারা বেগম। অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে বিশ্বনাথ থানার এএসআই কামরুজ্জামান ওই কলেজছাত্রী, তার ছোট বোন ও মায়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বখাটেদের দিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করানোর হুমকি দেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কলেজছাত্রীর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর বাবার কাছ থেকে কিছু জমি ক্রয় করে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সৎ মায়ের সঙ্গে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে ঝগড়া চলে আসছিল তাদের। সৎ মায়ের দেওয়া অভিযোগের তদন্ত করতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সাদা পোশাকে তাদের বাড়িতে যান এএসআই কামরুজ্জামান। ওই সময় বাড়িতে ছিলেন ওই তরুণী, তার ছোট বোন (১৬) ও মা (৪৬)।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় কিছু বখাটেদের নিয়ে কামরুজ্জামান প্রথমেই অশ্লীল গালি দিয়ে বিনা অনুমতিতে ঘরে প্রবেশ করেন। উচ্চ আওয়াজে অকথ্য ভাষায় সবাইকে গালি দেন। কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি ওই তরুণীর ওপর চড়াও হন। তখন তার সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবলরাও লাঠি নিয়ে তেড়ে আসেন তার দিকে। পরে তার মা ও বোনের ঘরে কামরুজ্জামান প্রবেশ করতে চাইলে বাধা দেন ওই তরুণী। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে কামরুজ্জামান বলেন, ‘তোকে বিবস্ত্র করে পেটাব, সঙ্গীয় ছেলেদের দিয়ে ধর্ষণ করাব। তোরা নষ্টা মেয়ে মানুষ। আমি তোর এমন অবস্থা করব আর কেউ তোকে বিয়ে করবে না। আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে না কেউ। আমি যেই সেই দারোগা নয়! থানার সব পুলিশ আমার কথায় ওঠে বসে। তোরা দেখবি কামরুজ্জামানের হাত কতো লম্বা।’

ওই সময় হট্টগোল শুনে ওই কলেজছাত্রীর মা ও বোন ঘর থেকে বেরিয়ে এলে তাদের সঙ্গেও অভদ্র আচরণ করেন কামরুজ্জামান। সঙ্গীয় বখাটে ছেলেদের বলে যান তারা যেন এই তরুণীদের ভালোভাবে ঠিক করে দেয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে এএসআই কামরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি যা বলেছি ওদের ভালোর জন্যই বলেছি। ওদের শাসিয়েছি মাত্র।’

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দোহা বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কামরুজ্জামানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি-ওসমানীনগর সার্কেল) কামরুল ইসলাম অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’