‘কাইল্লার ঘরের কাইল্লা, বিনা ভোটের বাণিজ্য মন্ত্রী’ বললেন মালয়েশিয়া যুবলীগ নেতা

প্রকাশিত: ৪:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | আপডেট: ৬:০৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: লয়েশিয়া যুবলীগ নামধারি নেতার বেপরোয়া আচরণে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন প্রবাসীরা। পারমিট করে দেয়ার নামে নিজ এলাকার প্রবাসীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা। শেষ পর্যন্ত কাউকেই ভিসা করে দিতে পারেনি।

ভূক্তভোগিরা পাসপোর্ট টাকা ফিরত চাইলেই তাদের হুমকি দেয়া হয় এমন অভিযোগ উঠেছে ওই নেতার বিরুদ্ধে। ভূক্তভোগিদের কেউকেউ সামাজিক মাধ্যম ফেইবুকে দালাল আখ্যা দিয়েছেন যুবলীগ নামধারি নেতাকে। কে সেই নেতা? এত প্রভাব তার? তিনি আর কেউ নন। তিনি হচ্ছেন জহিরুল ইসলাম জহির। শরিয়তপুরের শখিপুর থানার বাসিন্দা।

নিজের স্বার্থে ভাটা পড়লে কমিউনিটির ভিবিন্নজনদের নিয়ে কুৎসা রটনায় ব্যস্ত থাকে জহির। এ ছাড়া নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আর্দশের সৈনিক পরিচয় দিয়ে হিরো হওয়া যাবে এমন ইস্যু নিয়ে মন্ত্রী ও দলের বিরুদ্ধেও কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সীকে বিনা ভোটের বানিজ্য মন্ত্রী বলে হোয়াইটসঅ্যাপে ভয়েস রেকর্ড করে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভাইরাল করা হয়। যা পরে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের হাতে হাতে পৌছালে জহিরুল অপর এক রেকর্ডে বলছে, এসব কথা যারা ভাইরাল করেছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করব আমি, কাউকে ভয় পাইনা।

গত ১১ জুলাই কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ প্রদর্শনী শীর্ষক ‘গো গ্লোভাল’ সম্মেলনে যোগদানের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশীক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান অহমদ আসছেন সংবাদ পেয়ে তাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য জহিরুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ এর নেতা কর্মীরা কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতীক বিমানবন্ধরে অবস্থান নেন সেখানে তাকে গুরুত্ব না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে যুবলীগের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভয়েস রেকর্ডে এসকল কথা বলেছে জহিরুল।

বাণিজ্য মন্ত্রীকে নিয়ে এমন কথা বলেও ক্ষান্ত হয়নি সে। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রীকে নিয়ে জহিরুলের ভাষ্য- এই টিপু , কাইল্লার ঘরের কাইল্লা, ওই (বাণিজ্য মন্ত্রী) রংপুরে নদীতে মাছ ধরেছে, ওইতো বিনা ভোটে এমপি হওয়ায় মন্ত্রী বানায়া দিছে জয় মামায়। ওরতো কোনো যোগ্যতাই নাই।”

হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস রেকর্ডে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সীকে বয়কট ও ঘৃণা করে বলেলেও পরে মন্ত্রীর সান্নিধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছে সে। মন্ত্রীর সাথে ছবি তুলবে না বলে নিতীবান হতে চাইলেও মন্ত্রীর পাশে বসে ছবি তুলেছে জহিরুল। এই হলো তার নীতিতে অটুট, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক আর আওয়ামী লীগের একনিষ্ট কর্মী হওয়ার নমুনা।

তার এমন আচরণে মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় আরোও বেপরোয় হয়ে উঠে জহিরুল। আইনের দৃষ্টিতে পলাতক থাকা অবস্থায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কোনো ধরনের বক্তব্য-বিবৃতি সব ধরনের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা হাইকোর্টের থাকলেও। হাইকোর্টের এ আদেশ উপেক্ষা করে ৩ সেপ্টেম্বর জহিরুল ইসলাম তার নিজের ফেইসবুক ওয়ালে তারেক রহমানের এক বক্তব্যের ভিডিও পোস্ট করে প্রচার করেছেন।

সর্বোশেষ প্রধান মন্ত্রীর নিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেছে জহিরুল ইসলাম। বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তাঁদের পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

সম্প্রতি গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর জহিরুল তার ফেসবুক পোস্টে এই সিদ্ধান্তকে তেলবাজদের এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। জহিরুল লিখেছে, শোভন-রব্বানী কাউকে তেল মারতো না। বিজয়ীদের পাশে নয় বরং শোভন-রব্বানীর পাশে আছি বলছে জহিরুল।

জহিরুলের এমন মন্তব্য মালয়েশিয়া আওয়ামী পরিবারের শীর্ষ নেতারা পাগল আখ্যায়িত করলেও জহিরুল ইসলাম জহিরের এমন আচরনে সাধারন নেতা-কর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ। সাধারন নেতা কর্মীরা বলছেন শীর্ষ নেতারা পাগল আখ্যা দিলেও আমরা যারা সাধারন কর্মী সবাই জহিরুলের আচরনে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসীদের বাজে মন্তব্য শুনতে হয় আমাদের।