কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়া রুয়েটের আতিকুর এখন সফল খামারি

টিবিটি

নিউজ ডেস্ক


December 25, 2019 | 09:14:AM | আপডেট: 09:14:AM
ছবিঃ সংগৃহিত

জয়পুরহাটের আতিকুর রহমান। ২০১৪ সালে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) থেকে বিএসসি পাসের পর অন্য দশজনের মতো আতিকুরের ইচ্ছা-স্বপ্ন দুটি তখন একটি চাকরি। এর জন্য চেষ্টা-পরিশ্রম দুটো সমানে চলল। তবে শেষ পর্যন্ত চাকুরে নয়; সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠলেন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এ গ্র্যাজুয়েট।

শুরুটা বেশ রোমাঞ্চকর। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন টিউশনির জমাকৃত ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে যাত্রা। প্রথমে বেছে নিলেন হাঁস-মুরগি, গবাদি পশু পালন ও মাছ চাষকে। মাত্র সাড়ে চার বছরের মাথায় সফলতা পেয়েছেন তিনি। সরকারি পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন জেলা পর্যায়ের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। এসব খামার থেকেই এখন প্রতি মাসে ১০ লাখের বেশি টাকা আয় করছেন তিনি।

এক কৃষক পরিবারে জন্ম আতিকের। চাকরি বা দেশের বাইরে গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি না নিয়ে কৃষিতে কেন ক্যারিয়ার বেছে নিলেন- এমন প্রশ্নে একটু পিছন থেকে শুরু করলেন। তিনি জানালেন, কৃষিও তাকে বেশ টানত। যে কারণে এইচএসসি পরীক্ষার পর মাছ চাষের ওপর সাতদিনের একটি প্রশিক্ষণ নেন এবং নিজেদের পরিত্যক্ত একটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। এই উদ্যোগ চালিয়ে যেতে থাকলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরও সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্য একজন লোক রেখে এবং বাবার সহায়তায় মাছ চাষ অব্যাহত রাখেন।

আর এই দিকে আতিকুলের শেষ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি ডিগ্রি। গতানুগতিকভাবে শুরু হলো সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাকরির চেষ্টা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত চাকরি না মেলায় নেমে পড়লেন উদ্যোক্তা হওয়ার মিশনে। প্রথমে চার-পাঁচটি গাভী নিয়ে গবাদি পশুর খামার গড়ে তোলেন আতিকুর।

এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি পালনসহ ছয়টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। পরে গড়ে তোলেন ‘তাহেরা মজিদ মাল্টিপারপাস এগ্রো লিমিটেড’ নামে একটি সমন্বিত ফার্ম। গবাদি পশু পালন ও মাছ চাষের পাশাপাশি ফেন্সিজাতের মুরগি টার্কি, তিতির, কেদারনাথ ও কোয়েল পাখির চাষ করে লাভবান হতে থাকেন।

থেকে ঋণ নিয়ে এবং ব্যবসার লাভের টাকা দিয়ে সোনালী ও ব্রয়লার মুরগি এবং মাছ চাষকে সম্প্রসারণ শুরু করেন। এভাবে দিন দিন ব্যবসা বড় হতে থাকায় ২০১৭ সালে ‘মন্ডল হ্যাচারি অ্যান্ড চিকস’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ হ্যাচারি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার সোনালি মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। বর্তমানে তার মুরগির খামারের এক লাখ সোনালি মাংসের মুরগি, ১০ হাজার সোনালি ডিম উৎপাদনের মুরগি, ৩০ হাজার ব্রয়লার মুরগি ও ছয়টি পুকুরে প্রায় ১০ হাজার মণের অধিক রুই, কাতলা, পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া মাছ রয়েছে। সব মিলিয়ে তার মূলধন এখন প্রায় আড়াই কোটি টাকার অধিক।

এসব উৎপাদিত মুরগি ও মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী ৮-১০টি জেলায় সরবরাহ করা হয়। ব্যবসায় বিশাল সফলতা পাওয়ায় বাবা ও শ্বশুরের নামে আলাদা আরো দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। নাম দেন ‘মেসার্স আদি ট্রেডার্স’ ও ‘মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্স’। বর্তমানে তার এসব প্রতিষ্ঠানে নয়জন ম্যানেজার, ৬০ জন স্থায়ী কর্মচারীসহ প্রতিদিন ১০০ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

এছাড়া পরোক্ষভাবে এলাকার প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। পাশাপাশি জেলা ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম ‘সোনালি মুরগি লতিরাজ জয়পুরহাটের গর্ব আজ’—এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাঁচ শতাধিক খামারি তৈরি করে এবং তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে মাছ ও মুরগি চাষে উদ্বুদ্ধ করে আত্মনির্ভরশীলে কাজ করছেন তিনি।

এই বিভাগের সর্বশেষ