‘কাপড় না সরিয়ে গায়ে হাত দেওয়া যৌন নির্যাতন নয়’

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১ | আপডেট: ৭:৫৭:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১
মুম্বাই হাইকোর্ট।

ত্বকের সঙ্গে সংস্পর্শ না হলে সেটি যৌন হয়রানি নয়। পোশাকের উপর দিয়ে স্তনে হাত দিলে প্রোটেকশন অব চিল্ড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস (পকসো) আইনের আওতায় যৌন নিপীড়নের মধ্যে ধরা হবে না। সম্প্রতি এমনই রায় দিয়েছে ভারতের মুম্বাই হাইকোর্ট। খবর এনডিটিভির।

ভারতজুড়ে যখন অধিকারকর্মীরা যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে, তখনই এমন রায় এলো।

গত সপ্তাহে এক রায়ে মুম্বাই হাই কোর্টের বিচারপতি পুষ্প গানেদিওয়ালা ৩৯ বছর বয়সী পুরুষ দ্বারা ১২ বছর বয়সী এক শিশুর বিরুদ্ধে হওয়া যৌন নিপীড়নের অভিযোগ বাতিল করে দেন। তিনি রায়ে বলেন, এই ক্ষেত্রে কাপড় খুলেনি অর্থাৎ ‘স্কিন অন স্কিন’ কন্টাক্ট হয়নি।

কোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালে লোকটি মেয়েটিকে পেয়ারা খাওয়ানোর কথা বলে তার বাড়িতে এনে মেয়েটির স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং তাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে। এই অপরাধের দায়ে নিম্ন আদালত থেকে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গত ১৯ জানুয়ারির রায়ে বিচারপতি পুষ্প গানেদিওয়ালা দেখান যে তার অপরাধ সংজ্ঞা অনুযায়ী যৌন নিপীড়নের মধ্যে পড়ে না যার ফলে কমপক্ষে ৩ বছরে থেকে ৫ বছরের জেল হতে পারে।

রায়ে তিনি লেখেন, আদালতের মতে কোনো অপরাধে কঠোর শাস্তির জন্য গুরুতর অভিযোগের প্রয়োজন। ভারতের শিশুদের যৌন সুরক্ষা আইন ২০১২ তে স্পষ্টভাবে বলে দেয় না যে, যৌন নির্যাতনের অপরাধ গঠনের জন্য ‘ত্বক-ত্বকের সংযোগ’(skin-on-skin contact) প্রয়োজন।

বিচারপতি গানেদিওয়ালা যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আসামিকে খালাস দিলেও শ্লীলতাহানির অভিযোগে তাকে কম দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

রায়ে তিনি বলেন, এটি ফৌজদারী আইনের মূল নীতি যে কোনও অপরাধের শাস্তি অপরাধ-গুরুত্বের সাথে সমানুপাতিক হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর ভারত জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী করুনা নন্দি বলেন, এমন রায় ‘প্রতিষ্ঠিত আইনের সম্পূর্ণ বিরোধী’ এবং মৌলিক মানবাধিকারের জন্য হুমকির। ভারতের নারীদের আইনি সহায়তা প্রদান করে সেন্টার ফর সোশ্যাল রিসার্চের পরিচালক রঞ্জনা কুমারী বলেন, এই রায় লজ্জাজনক, আপত্তিকর, জঘন্য এবং বিচারিক বিচক্ষণতাহীন।